
রাজধানীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকগুলো একসময় ছিল নাগরিক প্রশান্তির ফুসফুস। লেকপাড়ের বাড়িগুলোর চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী, আর দখিনা বাতাসের টানে মানুষ সেখানে সপরিবারে ঘুরতে আসত। কিন্তু সেই আভিজাত্য এখন অতীত। বর্তমানে এসব এলাকার লেকগুলো পরিণত হয়েছে উন্মুক্ত নর্দমায়। অভিজাত ভবনের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি লেকে পড়ায় ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা অতিষ্ঠ করে তুলেছে জনজীবন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) এক জরিপে দেখা গেছে, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ বাড়িরই নিজস্ব কোনো পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই। জরিপ করা ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টি বাড়ির পয়ঃবর্জ্য সরাসরি উন্মুক্ত নালা বা লেকে গিয়ে পড়ছে।
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বাড়িতে সেপটিক ট্যাংক থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ মালিক আইন অমান্য করে সংযোগ দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের ড্রেনে।
বিলাসবহুল এসব এলাকার বাসিন্দারা এখন নিজেদের বারান্দায় বসতে পারেন না। তীব্র গন্ধে সবসময় জানালা বন্ধ রাখতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে লেকটি হতে পারত প্রশান্তির উৎস, সেটি এখন ময়লার ভাগাড়। লেকপাড় দিয়ে এখন নাক চেপে হাঁটতে হয়। শুধু অভিজাত এলাকা নয়, এই দূষণের প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী বাড্ডা, শাহজাদপুর ও মহাখালী এলাকাতেও।
২০২৩ সালে তৎকালীন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম লেকের দূষণ রোধে অভিযান চালিয়েছিলেন। অনেক বাড়ির অবৈধ সংযোগে কলাগাছ ঢুকিয়ে দিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অভিযানের পরপরই সেই কলাগাছ সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং আগের মতোই বর্জ্য মিশছে লেকের পানিতে। অনেক বাড়ির মালিক এখন সুকৌশলে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে অবৈধ সংযোগগুলো ঢেকে রেখেছেন।
এ বিষয়ে গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বলেন, আমরা ওয়াসাকে পানির বিলের পাশাপাশি পয়ঃবর্জ্য শোধনের বিলও দিই। অথচ সেই বর্জ্য দাশেরকান্দি শোধনাগারে না গিয়ে পড়ছে লেকে। এটি একটি সভ্য দেশে অবিশ্বাস্য।
অন্যদিকে ডিএনসিসির প্রকৌশল বিভাগ বলছে, সিটি করপোরেশনের ড্রেনগুলো মূলত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য। সেখানে পয়ঃবর্জ্য ফেলার কোনো আইনি সুযোগ নেই। ঢাকা ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন লাইন পুরোনো ও অকেজো হওয়ায় এই বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর জানান., ‘সিটি করপোরেশনের পাইপলাইনে পয়ঃবর্জ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’
































