
আরাফাত আলী, স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ নিয়ে দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পরও অফিসের কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। বরং সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবু ছুটিতে থাকলেও বদলি কর্মকর্তা সাব- রেজিস্ট্রার মাহমুদুল হাসান এর দায়িত্বে অফিসের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ সময় বিভিন্ন দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে দলিল লেখকের মাধ্যমে প্রতি দলিলে ১ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। কেউ এ বিষয়ে আপত্তি জানালে দলিলে ত্রুটি দেখিয়ে নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সক্রিয় দালাল চক্র কাজ করছে। তাদের দাবি, অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এ সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অবৈধ সুবিধা আদায় করছে।
এদিকে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গত প্রায় এক বছরে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছেন এবং এ কাজে নৈশ প্রহরী জাহিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা শুধু দুর্নীতির ঘটনা নয়, বরং সরকারি সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার জন্যও বড় ধরনের হুমকি। তারা অবিলম্বে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সদর সাব-রেজিস্ট্রার অমায়িক বাবুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে নৈশ প্রহরী জাহিদ হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সেবাগ্রহীতাদের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও কেন কার্যকর তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। তাদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে সরকারি সেবার পরিবেশ স্বাভাবিক হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।
বর্তমানে সাতক্ষীরাবাসীর নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন কতটা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



























