
নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের Extra-2 কোচে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল আনুমানিক ৫:২০টার পর হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রায় ৬০ বছর বয়সী এক যাত্রী। ট্রেনে জরুরি ঘোষণা দিয়ে কোনো চিকিৎসক থাকলে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
ঘোষণা শুনে তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে যান ডা. মো. কামরুল ইসলাম, যিনি একই ট্রেনে ঢাকায় ফিরছিলেন।
রোগীর স্ত্রী ও রোগীর কাছ থেকে ইতিহাস নিয়ে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এছাড়া তিনি একসময় জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ-এর সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে নিজস্ব একটি পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। অসুস্থ হওয়ার সময় তার মাথা ধরা,ঘাম, হাত কাঁপা, তীব্র দুর্বলতা, বমিভাব এবং শারীরিক অস্বস্তি দেখা দেয়। ডাক্তার পালস, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য প্রাথমিক পরীক্ষা করেন।
ডা. কামরুল ইসলামের প্রাথমিক মূল্যায়নে রোগীর হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া) হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কোল্ড ড্রিংকস ও চকোলেট খাওয়ানো হয়। পরে অন্য যাত্রীদের সহায়তায় বমিভাব কমানোর ও অন্যান্য ওষুধও খাওয়ানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগীর অবস্থার উন্নতি হলেও নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেনটি পরবর্তী সীতাকুণ্ড স্টেশনে থামিয়ে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগীর রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
ট্রেনে উপস্থিত যাত্রীরা জানান, চলন্ত ট্রেনে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে ডা. মো. কামরুল ইসলামের দ্রুত সিদ্ধান্ত, পেশাদারিত্ব ও মানবিক উদ্যোগের ফলে রোগী দ্রুত চিকিৎসাসেবা পান এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়।




























