
মোঃ সোহরাব উদ্দিন মণ্ডল, গাজীপুর
গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার একাধিক অভিযোগ উঠেছে কবির নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা (যেমন—ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি) পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে, থানা, ভূমি অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাকিতে পণ্য নিয়ে দীর্ঘদিন টাকা পরিশোধ না করা এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগও করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ড, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হলেও কোনো কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি নেওয়া অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নারী ভুক্তভোগী বলেন, “কবির তার মোবাইল ফোনে একটি তালিকা দেখিয়ে আমাকে বলে, ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় আমার নাম এসেছে। এখন নিবন্ধনের জন্য টাকা দিতে হবে। এ কথা বলে মে মাসে ৭০০ টাকা এবং পরে জুন মাসে আরও ১ হাজার টাকা নেয়। মোট ১ হাজার ৭০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ফ্যামিলি কার্ডের কোনো খোঁজ পাইনি।”
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “এলাকার অনেকের কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন ভাতার কথা বলে কবির টাকা নিয়েছে। পরে কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে, ‘ফ্যামিলি কার্ড হেলিকপ্টারে করে আসতেছে।’”
এছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিনেও লাইসেন্স না দেওয়া এবং টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, কবির একটি নিবন্ধনবিহীন এনজিও পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আমানতকারীদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত না দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরিয়ে রাখছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নিয়ে দীর্ঘদিনেও টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। পাওনা টাকা চাইতে গেলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
রাহিমা (ছদ্মনাম) নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “কবিরের বোনের স্বামী ভাঙ্গাব্রিজ এলাকার রিপন সরকারের জমিজমা দেখাশোনা করেন। রিপন সরকার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বোন জামাইয়ের মাধ্যমে সেই প্রভাব এবং গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমানের নাম ব্যবহার করেই কবির প্রতারণার এসব কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।”
সাকিব (ছদ্মনাম) নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, “কবির নিজেকে কাশিমপুর থানার ওসির ছেলে বলে পরিচয় দেয়। সে দাবি করে, ওসি নাকি তাকে নিজের সন্তানের মতো দেখেন। সে নিজের বিভিন্ন অপকর্মে প্রভাব বিস্তারের জন্য ওসির নামও ব্যবহার করে।”
কবিরের উত্থান সম্পর্কে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, “কবির আগে সাবেক এক কাউন্সিলরের অফিসে পিয়ন হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজেকে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে প্রচার শুরু করেন। এ সময় তিনি সংসদ সদস্যের নাম ব্যবহার করে একটি সংগঠনের ব্যানারে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের আড়ালে ছিল ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য।”
একাধিক ভুক্তভোগী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, "উত্থাপিত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। আমি এসকল বিষয়ের সাথে জড়িত না।"




























