
বেলাল উদ্দিন, স্টাফ রিপোর্টারচট্টগ্রামের লোহাগাড়ার কলাউজান ইউনিয়নের নেয়াজেরটেক থেকে কানুরাম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, বালির পরিবর্তে পাহাড়ি ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে আনা মাটি ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি সংস্কার করা হচ্ছে। তবে কাজে সরকারি নীতিমালা ও মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে এলাকাবাসী।স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলীর এক সহকারী সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন এবং ওই সময় প্রতিবেদকও উপস্থিত ছিলেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও, ছবি ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।স্থানীয়রা বলেন, এ পর্যবেক্ষণের পরও কয়েকদিন বিরতি দিয়ে পুনরায় একইভাবে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদক একাধিকবার যোগাযোগ ও বার্তা পাঠালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা বা দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।স্থানীয়রা আরও জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করায় বর্ষা মৌসুমে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের যথাযথ তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ বিন মাহমুদ বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করছি। এতদিন ঠিকাদার খারাপ মালামাল ব্যবহার করেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নিম্নমানের মালামাল আনা হয়েছে, যা ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এগুলো ফেরত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালি চিঠি দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























