
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ উল্লাহ গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি স্বাভাবিকভাবে না থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলেরা। প্রায় ১০০ জেলে পরিবার সম্পূর্ণভাবে এই নদীর ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিবারগুলো অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় জেলে লালচান বলেন, “আগে প্রতিদিন নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাতাম। এখন নদীতে পানি নেই, মাছও নেই। তাই বাধ্য হয়ে অবসর সময় জাল বুনছি, যাতে কিছুটা হলেও আয় হয়।” তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে পরিবার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়ায় শুধু জেলেরা নয়, পুরো গ্রামটির অর্থনৈতিক চিত্রও পরিবর্তিত হয়েছে। মাছ শিকার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জলিল বলেন, এই এলাকার জেলেরা সম্পূর্ণ নদীনির্ভর। পানি না থাকায় তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়েছে। বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনকে জানিয়েছি এবং দ্রুত সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।
ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, জেলেদের এই সংকট অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে তাদের জন্য সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদে পানি কমে যাওয়ার কারণে মৎস্য আহরণ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জেলে পরিবারগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয় জেলেরা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করে বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না হলে এই নদীনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়বে।




























