
চট্টগ্রাম
কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম
“বর্ষা আসছে, তার আগে খালের এই অংশটি কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, সেটা কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত ছিল।”
কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রাম
সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধিঃ
কয়েক ঘণ্টার ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বন্দরনগরীর আকাশ ছিল মেঘলা। বেলা ১০টার পর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয় এবং বেলা ১১টার দিকে ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। এরপর দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত টানা মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়।
বৃষ্টি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি জমতে শুরু করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা যায় গোলপাহাড় মোড় থেকে প্রবর্তক মোড় হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সামনের সড়ক পর্যন্ত।
দুপুর ১টার দিকে বদনা শাহ মাজার সংলগ্ন এলাকায় কোমর থেকে বুকসমান পানি জমে যায়। ওই সড়কে তীব্র ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল করতে দেখা গেছে।
মাজার সংলগ্ন নার্সিং কলেজ সড়কও পানিতে তলিয়ে যায়। বিপরীত পাশের সিএসসিআর ও সেবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ একাধিক বেসরকারি ক্লিনিকে আসা রোগীরা পানিতে আটকা পড়েন।
এর আগে সোমবার বৈশাখের প্রথম বৃষ্টিতেও এই অংশটি ডুবে গিয়েছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে সড়কের ওই অংশে গিয়ে দেখা যায়, পানিতে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে কয়েকটি অটোরিকশা আটকা পড়েছে। সড়কের এক পাশে রাখা একটি প্রাইভেট কার ও তিনটি মোটর সাইকেল অর্ধেকের বেশি পানিতে ডুবে গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাচ্ছিলেন নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকার বাসিন্দা সামিউল হক। প্রবর্তক মোড়ে পৌঁছানোর আগেই তিনি পানিতে আটকা পড়েন।
তিনি দৈনিক আলোকিত সকাল কে বলেন, “এখানে মেডিকেল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আছে। এই সড়কে বারবার পানি ওঠে। সামনে বর্ষা আসছে, তার আগে খালের এই অংশটি কীভাবে পরিষ্কার রাখা যায়, সেটা কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত ছিল।”
প্রবর্তক মোড়ের অদূরে হিজড়া খালের পাঁচলাইশ অংশে সংস্কারকাজ চলমান থাকায় সেখানে খালের ভেতর মাটি দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবারের ভারি বৃষ্টিতে ওই এলাকায় খাল ও সড়ক একাকার হয়ে যায়। কাতালগঞ্জেও খালের কালভার্ট সংস্কারের কারণে গত দুই মাস ধরে সড়কের একপাশ বন্ধ রয়েছে, সেখানেও পানি জমেছে।
এছাড়া মুরাদপুর এন মোহাম্মদ অংশে খালের পানি উপচে মূল সড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। এতে ওই সড়কে যানবাহনের ধীরগতি এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
নগরীর বহদ্দারহাট, তিন পোলের মাথা, জামালখানের প্রচ্ছদ গলি ও রহমতগঞ্জ এলাকায়ও পানি জমে যায়।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) উপ-প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা দৈনিক আলোকিত সকাল কে বলেন, “এসব জায়গায় কোথায় কী সমস্যা আছে সেটা আমরা দেখছি। খালে বাঁধ যেখানে আছে, সেসব স্থানে মাত্র একটি করে পাইপ দেওয়া আছে পানি যাবার জন্য। অথচ খালের প্রস্থ ২০ ফুট। ভারি বৃষ্টিতে এত পানি একটা পাইপ দিয়ে সরা সম্ভব না।”
বেলা আড়াইটার দিকে প্রবর্তক মোড় ও চমেক এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
পরে একান্ত সাক্ষাৎ তে দৈনিক আলোকিত সকাল কে তিনি বলেন, “যেখানে যেখানে সমস্যা আছে সেটা আমি দেখতে সরেজমিন এখানে এসেছি। ইতোমধ্যে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, গোসাইলডাঙা, সিডিএ, আগ্রাবাদ, চকবাজার, ফুলতলি ঘুরে এখানে এসেছি। আমি মনিটরিং এর মধ্যে আছি।
“একটা কর্মযজ্ঞ চলছে আসলে। গতবছর বর্ষাতে আমরা জলাবদ্ধতা কমিয়ে দিতে পেরেছিলাম। এবারেও আশাবাদী, হিজড়া খালের কাজ যদি ১৫ মে এর মধ্যে শেষ করতে পারি তাহলে জলাবদ্ধতা কমাতে পারব।”
প্রবর্তক মোড় ও আশেপাশের এলাকায় হিজড়া খালের কাজ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড করছে জানিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্পের অধীনে হিজড়া খাল, জামালখান খাল এবং মুরাদপুরের যে অংশ সেখানে কাজ এখনো শেষ হয়নি।
“হিজড়া খালের প্রবর্তক, পাঁচলাইশ ও কাতালগঞ্জের অংশে কাজ চলছে। বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দেওয়ার কারণে চকবাজার, প্রবর্তক ও মেডিকেলের সামনে পানি উঠেছে। বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে তারা রিটেইনিং ওয়ালের কাজ করছে। তারা আমাদের বলেছে ১৫ মে এর মধ্যে বুঝিয়ে দিতে পারবে।”
অতি ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ধসের শঙ্কা
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৬ মিলিমিটার।
এদিকে দেশের আট বিভাগেই কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেছে সিটি করপোরেশন।
অন্যদিকে, i এখনো চলমান।




























