
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
গাইবান্ধা জেলায় ভুয়া কাজীর দৌরাত্ম্য বাড়ায় বৈধভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত মুসলিম কাজীর সংখ্যা ৯৬ জন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছেন ৭ জন কাজী।
অভিযোগ উঠেছে, নির্দিষ্ট ইউনিয়নের বাইরে গিয়ে বিয়ে পড়ানোসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়ছেন কিছু ব্যক্তি, যারা নিজেদের কাজী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। স্থানীয় কাজীদের মতে, এক ইউনিয়নের কাজী অন্য ইউনিয়নে গিয়ে বিয়ে পড়ানোর প্রবণতা যেমন বাড়ছে, তেমনি ভুয়া কাজীর তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রকৃত কাজীদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সৃষ্টি হচ্ছে আইনি জটিলতা।
বল্লমঝাড় ইউনিয়নের এক কাজী জুলফিকার আলী বলেন, “আমরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। কিন্তু ভুয়া কাজীরা এসে অবৈধভাবে বিয়ে পড়িয়ে দিচ্ছে। এতে আমাদের পেশার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় তারা অন্য ইউনিয়ন থেকেও এসে বিয়ে পড়ায়, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত।”
বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়েদের বিয়ে পড়ানোর ক্ষেত্রে ভুয়া কাজীদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বয়স যাচাই ছাড়াই এসব বিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল।
এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার জহুরুল ইসলাম বলেন, “বিয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো কাজী তার নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে বিয়ে পড়াতে পারেন না। ভুয়া কাজীদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং বিয়ে সম্পন্ন করার আগে সংশ্লিষ্ট কাজীর বৈধতা যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, ভুয়া কাজীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।




























