
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলা ছোটগল্পের অনন্য স্থপতি,কথাসাহিত্যিক ও অধ্যাপক শাহেদ আলী-এর ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হলো গতকাল (৬ নভেম্বর)। নিঃশব্দে কেটে গেলো দিনটি,তবে তাঁর গল্প,মানবিক দর্শন ও সমাজচিন্তা আজও পাঠকের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।
১৯২৫ সালের ২৬ মে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাহেদ আলী। মানবপ্রেম,গ্রামীণ বাস্তবতা ও ন্যায়ের প্রতি গভীর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তাঁর লেখার মূল সুর। শিক্ষকতা শুরু করেন বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে,পরে নির্বাচিত হন ১৯৫৪ সালের আইনসভার সদস্য হিসেবে। ভাষা আন্দোলন ও সমাজসচেতনতায়ও তিনি ছিলেন সক্রিয়।
বাংলা ছোটগল্পে তাঁর অবদান অনন্য। প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘জিব্রাইলের ডানা (১৯৫৩) তাঁকে সাহিত্যাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করে।এরপর একই সমতলে’(১৯৬৩) গ্রন্থে স্থান পেয়েছে কালজয়ী গল্প‘একই সমতলে’যেখানে ফুটে উঠেছে অসহায় বাছুর,মাতৃত্বের মমতা ও মানবিক বোধের নিখাদ চিত্র। তাঁর লেখায় গ্রামীণ জীবনের মর্মস্পর্শী সত্য,সহজ সরল মানুষ আর মানবিকতার গভীরতা বারবার ফিরে এসেছে।
১৯৬৪ সালে বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার। জানা যায়, তাঁর গল্প ‘জিব্রাইলের ডানা’অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী ছিলেন সত্যজিত রায়,ঋত্বিক ঘটক ও মৃণাল সেন; কিন্তু নানা কারণে তা আর বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় সাহিত্য সংস্কৃতি কর্মী আলীম উদ্দিন বলেন শাহেদ আলীর গল্প মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাঁর মানবিক দৃষ্টি আমাদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।”
স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী চাপাইতি গ্রামের শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন“তিনি কেবল কথাশিল্পী নন, সমাজচিন্তাবিদও বটে। তাঁর লেখা নতুন প্রজন্মকে ন্যায্যতা ও মানবিকতার পাঠ দেয়।
জাহিদুল ইসলাম বলেন তাঁর গল্পগ্রন্থগুলো পুনঃপ্রকাশ করা জরুরি, যাতে নতুন পাঠক প্রজন্ম তাঁর সাহিত্যরস অনুভব করতে পারে।
২০০১ সালের ৬ নভেম্বর ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শাহেদ আলী। তাঁর প্রয়াণে শূন্যতা সৃষ্টি হলেও গল্পের কোমলতা, মানবিকতার গভীরতা এবং সমাজচিন্তার নিঃশব্দ বার্তায় তিনি আজও জীবন্ত।
নীরব বিদায় নিয়েছিলেন,কিন্তু গল্পের কোমলতায় তিনি অমর হয়ে আছেন চিরকাল,প্রতিটি পাঠকের হৃদয়ে।





























