
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের একখুলিয়া এলাকায় সড়ক উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে হালদা চরের মাটি। অথচ মৎস্য হেরিটেজ ঘোষিত হালদা নদী থেকে মাটি-বালি উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও এসবের তোয়াক্কা করছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মহসিন অ্যান্ড ব্রাদার্স।
নদীর চর থেকে নির্বিচারে মাটি উত্তোলনে হুমকির মুখে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর চরের এ অংশ থেকে মাটি উত্তোলন কার্যক্রম এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চললেও এসব রোধে চোখে পড়েনি প্রশাসনের কোনো তৎপরতা।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর একখুলিয়া অংশে জেগে ওঠা চরের মাটি এক্সকাভেটর দিয়ে কেটে ড্রাম ট্রাকে করে পার্শ্ববর্তী সড়ক উন্নয়ন কাজে ফেলা হচ্ছে। এ সময় সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু শ্রমিক পালিয়ে গেলেও এক্সকাভেটরের চালক জানান, সরকারি রাস্তার উন্নয়ন কাজের প্রয়োজনে ঠিকাদারের নির্দেশনায় এসব মাটি কাটা হচ্ছে।
বারৈয়ারহাট হতে একখুলিয়া বেড়িবাঁধ এলাকা সড়কের এক কিলোমিটার অংশের এইচ বিবি দ্বারা সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাইরে থেকে ইট ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী সংগ্রহ করলেও বালি মিশ্রিত মাটি নিচ্ছে পার্শ্ববর্তী হালদা নদী থেকে। এতে ওই এলাকায় বেড়িবাঁধের বড় একটি অংশ কেটে মাটি পরিবহন করার কারণে ফের ভাঙনের আশঙ্কায় রয়েছে হালদা।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মহসিন হায়দারের বক্তব্য জানতে চেয়ে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকার পরিচয় দিয়ে মারুফ হাসান নামে একজন সড়কটির উন্নয়ন কাজে হালদার মাটি ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন সুমন বলেন, সড়ক উন্নয়নের চিন্তায় হালদা থেকে মাটি উত্তোলন নিয়ে ভাবিনি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির কো-অর্ডিনেটর ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার হালদা থেকে বালু উত্তোলন-মাটি কাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যারা মাটি কেটে নদীর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে ফেলছে তাদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, কাজ বাস্তবায়ন করা ঠিকাদারের কাজ। মাটি বালি সংগ্রহের ব্যাপারে আমরা অবগত নই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই হালদা নদী থেকে মাটি-বালি উত্তোলন করা যাবে না। ওই এলাকায় এক্ষুনি অভিযান চালিয়ে এক্সকাভেটরটি জব্দ করতে এসিল্যান্ডকে বলে দিচ্ছি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাত ৮টার দিকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে এক্সকাভেটরটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।





























