শিরোনাম
গঙ্গাচড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু টেন্ডার হলেও শুরু হয়নি কাজ, বেহাল সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে রক্তদান দিবসে নাঙ্গলকোট ছাত্রনেতা জাহিদুল মাওলা ছায়েমের ৪র্থ বারের রক্তদান মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে লাকসামে সাংবাদিক সম্মেলন সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন ধুনটে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প,তিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা মহাসড়কের পাশে বর্জ্যের ভাগাড় করা যাবে না- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী চেয়ারম্যান হিসেবে জাকির হোসেন বাবুকে দেখতে চায় জামপুর ইউনিয়ন বাসী চন্দনাইশে ৬টি বসতঘর পুড়ে ছাই পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীর উদ্যোগে নয়াবাজারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
সোমবার ১৫ জুন ২০২৬
সোমবার ১৫ জুন ২০২৬

অধম নূর ইসলাম এর গল্প কত্ত রকম ইদ

সাহিত্য সকাল ডেস্ক
প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬ | অনলাইন সংস্করণ

Image


বাবাকে একদিন জিজ্ঞেস করলাম আচ্ছা বাবা গোরু ক্যান হাম্বা ডাকে?  

বাবা উত্তরে বলল এটা তার মাতৃভাষা।

তাদেরও মাতৃভাষা আছে আগে জানতাম না।

মনে একটা খটকা আছে বোবাপ্রাণীর আবার কিসের মাতৃভাষা!

ছোটবেলা থেকেই খুব দুষ্ট ছিলাম যার কারণে বাবা মায়ের কাছে বোকা খেতাম অনেক।

গোরুর হাটে গিয়ে সারাদিন পার করে দিয়েছি, কিভাবে দিন চলে গেল বুঝতেই পারলাম না।

বাসায় এসে দেখি বাবার চোখে আগুন, আমার কপালে আজ শনি আছে।

আজকে কী যেন হয় আমার ভাগ্যে! মা বলল হাত মুখ ধুয়ে এসে ভাত খাও।

ততক্ষণে মা বাবাকে ঠান্ডা করে বিছানায় শুয়িয়ে এসেছে।

আজকের মত বেঁচে গেলাম।

খাবার খেয়ে ঘুমাতে গেলাম কিন্তু দুচোখে ঘুম নেই সারাদিনের ঘটনাগুলো ভেসে ওঠছে চোখে।

বন্ধুদের সাথে গিয়েছিলাম বিএনপি বাজারে বসা গোরুর হাট দেখতে।

চারিদিকে গোরু, ছাগল। আমরা পাঁচ বন্ধু।

একজন লাল রঙের জামা পরে হাটে এসেছে। আমরা সবাই অন্য রঙের জামা পরা।

শুনেছি লাল রং দেখলে নাকি গোরু ক্ষ্যাপে বিশ্বাস করতাম না, আজ করছি।

ভাই এই ছোট্ট গোরুটা কত নিয়েছি? একুশ হাজার পাঁচশো টাকা।

এতো ছোট গোরু বেশি নিয়েছে মনে হয়।

লাল জামা পরা বন্ধুটা বলল হুম, ঠিক বলছিস।

বেচারা বলতে দেরি তার কথা মাটিতে পড়ার আগেই হাম্বা বলে পিছন থেকে অন্য আরেকটি গোরু

আমার বন্ধুটাকে গুঁতা দিয়েছে।

ওরে মাগো বলে চিৎকার। আমরা ভয়ে দৌড়।

আরকি পিছে ফিরে তাকানোর সময় আছে। গোরু ছুটে গেছে পালাও সবাই।

বন্ধুরা যার যার জীবন নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমি দৌড়িয়ে বেশি দূর যেতে পারিনি।

এক গোরু বেপারির কাছে গিয়ে বসে আছি, ভয়ে আল্লা আল্লা ডাকছি।

বন্ধুরা কে কোথায় জানি না। গোরুর হাটে আমি।

অস্ট্রেলিয়ার গোরুর পাশে দাঁড়িয়ে আছি, গোরু দেখে ভয় পাচ্ছি কিন্তু আমাকে সে কিছুই বলে না।

তখন কোথার থেকে একটা পিচ্চি গোরু পিছন দিয়ে এসে পাঁচ বন্ধুকে পাঁচদিকে করছে।

ভাবতেই অবাক হই।

আমি যখন চাকরি করতাম তখনকার ঘটনা।

বায়েজিদ সে আমার জুনিয়র, একই অফিসে আমরা দুজন ছিলাম।

একদিন দুজনে মিলে হাটে গিয়েছি গোরু দেখতে।

অফিসের বস পাঠিয়েছে তার জন্য গোরু দেখতে কোরবানি দিবে।

আমি একটা গোরু পছন্দ করলাম দাম কত? চল্লিশ হাজার।

কম কত? কম হবে না। মনে মনে বলি ধুর মিয়া।

বায়েজিদ বলল ভাই এখান থেকে গোরু কিনতে পারবেন না, স্যারকে ফোন দেন।

স্যার বললেন অফিসে চলে আসো।

অফিসে আসার পথে বায়জিদের সঙ্গে বকবক করছি ইদ নিয়ে। বায়জিদকে বললাম,

‘ইদ হৃদয়ে নিয়ে আসে ভিন্নরকম আনন্দ, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

ছোট্ট ছেলে জয়, যেই আকাশে ইদের চাঁদ দেখল আনন্দে তার মন ভরে গেল।

সে অনেক খুশি আগামীকাল ইদ। চারিদিকে একই কথা ইদ, আগামীকাল- ইদ।

আবার অনেকের মুখে শোনা যায়। কবি নজরুলের লেখা বিখ্যাত সেই গান

‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ইদ।’

বাজার গুলোতে ভীড়, ইদ বাজার করতে সবাই ব্যস্ত।

ছোট্ট ছেলে জয় সেও অনেক খুশি, ছুটে যায় তার মায়ের কাছে।

মাকে বলে মা ও-মা মা। -মা বলে কী বাবা বল?

ছেলেটি বলে মা আগামীকাল ইদ।

তুমি বাজারে যাবে না, ইদ বাজার করবে না, আমাকে নতুন জামা দিবে না?

জয়ের বাবা নেই। জয় যখন জন্মগ্রহন করে,

তার দুই তিন মাস পরেই তার বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়।

সে তার মায়ের কাছেই বড় হয়েছে। জয়ের কথা শুনে তার মা কিছুক্ষণ নীরব রইল।

কিছুক্ষণ পর মা ছেলেটিকে বুকে নিয়ে বলল বাবা আমাদের আবার কিসের ইদ।

বাবারে ইদ সবার জন্য হলেও ইদ আনন্দ সবার জন্য নয়।

আমরা তো একবেলা খাবারই ঠিক মতো খেতে পারি না, আমাদের আবার ইদ আনন্দ।

মায়ের কথাগুলো শুনে জয় মাথা নিচু করে চলে গেল বিছানায়, ঘুমিয়ে পড়ল সে।

বায়জিদ এই দুনিয়ায় আছো? হ্যাঁ, আছি ভাই। শোনো তাহলে।

আমার পরিচিত এক আদরের দুলাল। ছেলেটির নাম ফয়সাল।

ইদ না আসতেই তাকে নিয়ে যায় তার বাবা নাম করা শপিংমলে। ইদের বাকি পাঁচ হতে ছয় দিন।

তার বাবা তাকে নিয়ে যায় শপিং এর জন্য। কত কিছুই না কিনে দিলো।

ইদে তার যতটুকু প্রয়োজন নয় তার চেয়েও অধিক ইদ মার্কেট কিনে দিলো তার বাবা।

ফয়সালের মা তার বাবাকে বলে আমার সন্তানের জন্য তুমি কী কিনেছ এগুলো!

চলো আমিও যাব মার্কেটে ওকে আবার ইদের পোশাক কিনে দেবো।

কী সুন্দরই না চিত্র! ইদ বলে কথা। ফয়সালের বাবার অনেক টাকা।

শোনো বায়জিদ ফয়সালও কিন্তু কম নয়।

চাঁন রাতে ঘর থেকে টাকা চুরি করে এইবার সে নিজেই একা চলে গেল মার্কেটে।

মানিব্যাগ, সানগ্লাস আরও কত কি কিনল সে। সত্যি কথাই জয়ের মা বলেছে।

‘ইদ সবার জন্য হলেও ইদ আনন্দ সবার জন্য নয়।’

আমরা তো একবেলা ঠিক মতো খেতেই পারি না।

আমাদের আবার কিসের ইদ। কিসের ইদ আনন্দ।

ইদের ছুটিতে অফিস বন্ধ। অফিসের বস ফোন দিয়েছি কোথায় তুমি? বাসায়।

কোনো কাজ আছে নাকি ফ্রি? যদি ফ্রি থাকো আমার বাসায় চলে এসো।

আমার কাছে খুচরা টাকা নেই। মায়ের কাছ থেকে গাড়িভাড়া নিয়ে বসের বাসায় গেলাম।

বাসায় গিয়ে দেখি মেডাম নাস্তার ব্যবস্থা করেছেন,

মিরিন্ডা অরেঞ্জ, বিস্কুট খেতে খেতে আড্ডা গল্প হচ্ছিল।

মেডাম বিশ হাজার টাকা হাতে দিয়ে বলল যত কমে পারো গোরু নিয়ে আসবে।

বসকে নিয়ে গাবতলি গেলাম গোরুর হাটে,

কোনটা রেখে কোনটা পছন্দ করব আর কোনটার দাম বলব তা নিয়ে মনে প্রশ্ন উঠেছে খুব।

স্যার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি মুচকি মুচকি হাসি আর ভাবছি পকেটে বিশ হাজার আছে।

দেখি দাম বলে, হাটে যখন এসেছি গোরু নিয়েই আজকে বাসায় ফিরবো।

গোরু পছন্দ করলাম কয়েকটা, দামে মিলে না,

কেউ ত্রিশ চায় কেউ পয়ত্রিশ চায় আবার কেউ চল্লিশ পয়তাল্লিশের মতো বলে।

হাঁটতে রইলাম আর গোরু দেখতে ছিলাম। ট্রাকে একগাড়ি গোরু এসেছে।

বেপারিরা যার যার স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। ভাই এই গোরুটার দাম কত?

গোরু কী নিবেন? আরে ভাই নেয়ার জন্য আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি।

কত টাকা? যদি নেন ছাব্বিশ হাজার টাকা দিবেন।

ভাই আপনি এসেছেন বিক্রি করতে আমি এসেছি কিনতে,

কুরবানি দেবো আপনার সাথে অযথা দামাদামি করে আপনার সময় নষ্ট করতে চাই না।

আপনার গোরুটা পছন্দ হয়েছে যদি দিতে ইচ্ছে হয় তাহলে দিতে পারেন, আমি বিশ হাজার টাকা দেবো।

না ভাই আরোকিছু বাড়িয়ে যদি দিতে পারেন তবে নিতে পারবেন।

বেপারি লোকটার কথা শুনে মনে হচ্ছে গোরুটা আমাদের কাছে বিক্রি করতে ইচ্ছুক সে।

বস আমাকে চোখের ইশারায় আড়ালে ডেকে নিয়ে বাইশ হাজার বলতে বললেন।

আমি বেপারি সাহেবের কাছে গিয়ে ভাই আর একটাও কথা বলবেন না,

ভাই হিসেবে এটা আমার দাবি আপনার কাছে এই নেন টাকা গোরুটা আমাদেরকে দিয়ে দেন।

কিছুটা অবাক হয়েছে বেপারি। বলেও ফেলল ভাই গোরু না নিয়ে টাকা দিয়ে দিলেন।

সবকিছুই বিশ্বাস ভাই। কত দিয়েছেন? গুনে দেখেন।

এক দুই করে বাইশ জ্বি ভাই রাখেন আর কোনো কথাই বইলেন না।

বেপারির মুখ দেখে মনে হচ্ছে সে জিতেছে।

বস আর আমি গোরু নিয়ে বাসার দিকে যাচ্ছি। সবার একটাই কথা দাম কত, কত নিলো।

গোরুর দাম বলতে বলতে মুখ ব্যথা কিন্তু মনে আনন্দ, সবাই যখন বলে জিতছেন।

ইদের নামাজ পড়তে মতিঝিল গিয়েছিলাম। বসের ফোন কোথায় তুমি? নামাজ পড়তে এসেছি।

নামাজ শেষে বাসায় চলে আসবে গোরু কাটতে হবে।

ইদের নামাজ যখন হচ্ছিল তখন খুব বৃষ্টি।

ইদের নামাজ শেষে বাসে করে মিরপুর যাচ্ছি সড়কে অনেক পানি।

কখনো লাল পানি সড়কে দেখি নাই। তবে পাগলা পানি খেয়েছি।

ছোটবেলায় দেখতাম মিষ্টি আচার ঝাল আচার টক আচার আর পানি মিশিয়ে,

ছোট ছোট পোটলা বানিয়ে পাগলা পানি বলে বিক্রি করা হতো। এখনও খুঁজি খেতে।

এই প্রথম দেখলাম পানির উপর গাড়ি আর চারিদিকে লাল আর লাল, মানে লাল পানি।

আমি যেখানে ইদের নামাজ আদায় করেছি সেখানে ইদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে আটটায়।

অনেক জায়গাতে সাতটা বা সাড়ে সাতটায় ইদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গোরু জবাই করেছে অনেকে তাই গোরুর রক্ত আর বৃষ্টির পানিতে সড়ক পথ লাল।

বসের বাসায় গিয়ে দেখি তাদের বাড়ির সামনে গোরুটাকে গোসল করিয়ে ঘাস খাওয়াচ্ছে তার দুই ছেলে।

আমি দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ গোরুটাকে আদর করলাম। মল্লবি এসে গোরুটাকে জবাই করবে।

মল্লবির হাতে ছুরি দেখে আমার ভেতর কেঁপে উঠল।

চোখের পলকে জাবাই করে চলে গেল সে।

মেডাম আমাকে একটা বঁটি দিয়ে বলল তুমি গোস্তগুলো টুকরো টুকরো করো।

গোরুটার জন্য কষ্ট হচ্ছিল খুব। এটাই কুরবানির বিধান মনকে শক্ত করলাম।

কসাইকে নিয়ে গোরু কেটে ভাগাভাগি শেষে বিতরণ করা শুরু করলাম।

এর এক ফাঁকে মেডাম তাদের ভাগ থেকে কিছু গোস্ত দিয়ে খিচুড়ি রান্না করলেন,

সবাই মিলে খাবার খেয়ে যার যার বাসায়, আমি খেয়ে চলে এসেছি।

মিরপুর ২ থেকে শেওড়াপাড়ায় আসার সময় রাস্তায় একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয়।

তোমার নাম কী?

গোলাপী।

গোলাপীকে দেখে মনে হচ্ছিল। ইদ আনন্দ তিন ভাগে ভাগ করা যায়।

যেমন ‘ধনীর ইদ আনন্দ একরকম, মধ্যবিত্ত পরিবারের ইদ আনন্দ আরেকরকম,

আর অসহায় গরিব মানুষের ইদ আনন্দ ভিন্নরকম।

আসলে সবার ইদ আনন্দ একই রকম হয় না।

চাঁন্দু মিয়ার মেয়ে গোলাপীর ইদ আনন্দ ছিল অন্যরকম।

গোলাপীর বাবা একজন কর্মজীবি তাদের পরিবার মধ্যবিত্ত পরিবার।

গোলাপী গতবছর টাকার সংকটে ইদের পোশাক পায়নি। তার বাবা মা কিনে দিতে পারেননি৷

এবছর সে একটা ইদের পোশাক কিনেছে। গোলাপী তার মায়ের সাথে মার্কেটে গিয়েছে।

যাবার সময় তার বাবা তার মাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বলে দিয়েছিল

যত কমে পারবে গোলাপীর ইদ পোশাকটি কিনবে।

আমাদের ছেলে গোলাপের জন্যও কিন্তু ইদ পোশাক কিনতে হবে।

গোলাপীর ভাই সে বাসায় নেই কোচিং এ গিয়েছে তাই তার মা তাকে নিয়ে মার্কেটে যেতে পারেনি।

মার্কেটে যাওয়ার পর গোলাপীর অনেক পোশাকই পছন্দ হয়

কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও সে তার পছন্দের পোশাক কিনতে পারেনি।

কারণ তার একটি ছোট ভাই আছে। তার জন্যও ইদ পোশাক কিনতে হবে।

গোলাপীর বাবা তার মাকে আড়ালে নিয়ে যে কথাগুলো বলেছিল,

গোলাপী তার বাবার সে কথাগুলো শুনেছিল। তাই গোলাপী তার মাকে বলল,

মা সাধ্যের মধ্যে তোমার পছন্দের পোশাক আমাকে কিনে দাও।

গোলাপীর বাবা অনেক কষ্টে পাঁচ হাজার টাকা জমিয়ে ছিল, সে টাকা নিয়ে তারা মার্কেটে যায়।

এই পাঁচ হাজার টাকা দিয়েই গোলাপীর পোশাক তার ভাইয়ের পোশাক এবং ঘরের ইদ বাজার করতে হবে।

এটাই সত্য যে আমরা চাইলেও অনেক সময় নিজের পছন্দের অনেককিছুই কিনতে পারি না।

আমাদের সাধ্যের বাহিরে থাকে।

অথচ কত ধনী ব্যক্তিরা তাদের সন্তানদের জন্য রঙের রঙের জামা কিনে,

কত নামিদামি ইদ পোশাক কিনে। কারণ তাদের আছে টাকা।

অসহায় মানুষ যারা তাদের ঠিকানা পথে, তাদের জীবনও ইদ আসে।

একদিন এক সংগঠণের সাথে এক আশ্রমে গিয়েছিলাম,

তাদের পক্ষ থেকে অসহায় শিশুদের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।

ইফতার বিতরণ করা হবে, মনে তাই খুব আনন্দ নিয়ে তাদের সাথে চললাম।

ফুলের মতো তাজা ফুটফুটে শিশুদের দেখে বেশ আনন্দ লাগছে হৃদয়ে,

মনে হচ্ছে যেন এক জান্নাতের বাগানে এসেছি।

যখন তাদের মুখে হাসি দেখেছি তখন আমার কাছে মনে হচ্ছে বিধাতার হাসি দেখেছি।

ছোট্ট এক ফুলের সাথে পরিচয় হওয়ার জন্য তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম।

তোমার নাম কী?

জিসান।

খুব সুন্দর নাম।

ভাইয়া তোমরা কী নিয়ে এসেছ?

আমরা তোমাদের জন্য ইফতার নিয়ে এসেছি।

ও আচ্ছা।

জিসানের বয়স বেশি নয় দশ থেকে হয়তোবা এগারো হবে দেখতে খুবই মিষ্টি চেহারা।

জিসান ইদের সময় তোমরা কী করো? জিজ্ঞেস করতেই জিসান অভিমান করে বসছে।

কিছুক্ষণ পরে তার কাছে গিয়ে স্যরি বললাম। অসহায় শিশু জিসান স্যরি শব্দটির অর্থ ভালোই জানে।

আমি স্যরি বলতেই জিসান বলল ভাইয়া অসহায় শিশুদের আবার ইদ।

আমরা তো ঠিক মতো তিনবেলা খাবারই খেতে পাই না। আমাদের আবার ইদ আনন্দ।

জিসান ঠিক জয়ের মায়ের মতোই কথা বলছে, তার কথাগুলো শুনে চমকে উঠি।

জিসান বলল ভাইয়া তবে আমার মনে আছে তোমাদের মতো কিছু ভাইয়া আপুরা গতবছর এসে

আমাদেরকে ইদের পোশাক ও চকলেট দিয়ে গিয়েছিল। সেটাই ছিল ইদ আনন্দ আমার কাছে।

গোলাপী ও তার মা মার্কেট শেষে বাড়ি ফিরছে, হঠৎ আঁকাশে মেঘ বাসা থেকে তার বাবা ফোন।

তোমরা কোথায়?

গোলাপী বলল আমরা এসে পরেছি আর মাত্র দশ মিনিট লাগবে, রিকশায় আছি বাবা।

ততক্ষণে গোলাপীর ভাই কোচিং থেকে বাসায় এসেছে।

গোলাপীর আম্মু ‘বাবা শার্ট প্যান্ট দুটো পরে দেখো তো ঠিক আছে কিনা, তোমার জন্য এনেছি।

গোলাপীর ভাই বলল তুমি শুধু শুধু টাকা নষ্ট করলে আম্মু। আমার জন্য ইদ মার্কেট না করলেও হতো,

তুমি বাবার জন্য কিছু নিয়ে আসতে।

গোলাপীর মুখে হাসি নেই, তার ভাই বিষয়টি লক্ষ করেছে৷

কি হয়েছে রে তোর?

কিছু না।

তোর জামাটা দেখি তো কেমন হয়েছে।

গোলাপী বলল না এখন দেখানো যাবে না বাহিরের কেউ দেখলে ইদ শেষ হয়ে যাবে।

দূর বোকা দেখি তো।

এতো সুন্দর, কত নিয়েছে রে?

এক হাজার টাকা।

জানিস ভাই, মার্কেটে গিয়ে দেখলাম অনেক সুন্দর সুন্দর জামা।

এক দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই ঐ জামাটার মূল্য কত? তিন হাজার পাঁচশো টাকা চেয়েছিল।

জামাটা দেখার মতো রে। গোলাপীর ভাই তার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তাকে সান্তনা দিয়ে বলল,

ওই সব জামা আমাদের জন্য নয় বড়লোকদের। তাদের জন্য নামিদামি পোশাক তৈরি করা হয়।

গোলাপী বলল ‘ঠিক বলছিস ভাই।

গোলাপীর মা জানে তার বাবা কত কষ্ট করে এই পাঁচ হাজার টাকা জমিয়েছে,

আর পাঁচ হাজার টাকা জানে কতটুকু গায়ের ঘাম ঝরালে পাঁচ হাজার টাকা জমে।


আরও খবর




গঙ্গাচড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু

চুরি ও ডাকাতির অভিযোগে বারবার আলোচনায় চন্দন দাশ

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাতক্ষীরার সাবেক এমপি সেঁজুতিকে

মনপুরায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে আটক দুই

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ডুয়েটের জন্য ৯৭ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

টেন্ডার হলেও শুরু হয়নি কাজ, বেহাল সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

রক্তদান দিবসে নাঙ্গলকোট ছাত্রনেতা জাহিদুল মাওলা ছায়েমের ৪র্থ বারের রক্তদান

মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে লাকসামে সাংবাদিক সম্মেলন

সাতক্ষীরা সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

ধুনটে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প,তিন শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা

মহাসড়কের পাশে বর্জ্যের ভাগাড় করা যাবে না- স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বাগাতিপাড়ায় ধর্ষণ মামলার মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, আরেক আসামি পলাতক

অবকাঠামোগত সংকটেও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ভাত গ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

চেয়ারম্যান হিসেবে জাকির হোসেন বাবুকে দেখতে চায় জামপুর ইউনিয়ন বাসী

চন্দনাইশে ৬টি বসতঘর পুড়ে ছাই

ধুনটে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের পাশে বিএনপি নেতা আসিফ সিরাজ রব্বানী

গাইবান্ধায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান: ৫ মাদকসেবী গ্রেফতার

ফুলপুরে ট্রান্সফরমার চোর গ্রেফতার

সরকারি ভাতার টাকা মসজিদ ফান্ডে জমা না দেওয়ায় ইমামকে চাকরিচ্যুতের অভিযোগ

কাশিমপুরে ফুটপাত দখল করে চাঁদাবাজি, থামছে না নেতার ভাইয়ের দৌরাত্ম্য

শরণখোলায় প্রাইভেট একাডেমির শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাস্তায় বসে ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ

ধর্ষণ মামলায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স গ্রেপ্তার

দক্ষিণ আইচায় ইয়াবাসহ জনতার হাতে আটক কথিত মাদক সম্রাট বাবুল

মাদকের বিরুদ্ধে ফুটবল টুর্নামেন্ট মানিকগঞ্জ, দৌলতপুরের চরকাটারীতে

ডুয়েট উপাচার্যের সঙ্গে এনপিসিবিএল প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কফিল উদ্দিন আর নেই

রূপগঞ্জের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত রনির মৃত্যু,থানায় মামলা দায়ের

সাতক্ষীরায় কোটি টাকার কোর্ট ফি জালিয়াতির মূলহোতা পিওন সিরাজুল গ্রেপ্তার

টাঙ্গাইল সদরে ২৫ পরিবারকে ব্র্যাকের ২৫০ মুরগির বাচ্চা বিতরণ

সনদ নেই, নিবন্ধন নেই; তবুও কাশিমপুরে ‘ডাক্তার’ পরিচয়ে চলছে চিকিৎসা


এই সম্পর্কিত আরও খবর

কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা-২০২৬ পেলেন শামীমা নাইস

শাম্মী তুলতুলের কবিতা মা আমার বিশ্ব

দেশগ্রামের সম্পাদক ও প্রকাশক মোস্তফা কামাল মাহ্দীর জন্মদিন

দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী পুরস্কার ও সম্মাননা পেলেন যারা

প্রকাশিত হয়েছে জাহানারা মতিনের কাব্যগ্রন্থ ‘শখের সমাধি’

বইমেলায় আসছে নাহিদ আহসানের 'মায়ের নীল শাড়ি'

রাজশাহীতে গুণিজন সম্মাননা পেলেন কবি শামীমা নাইস

রাজশাহীতে সাহিত্য সংগঠক হিসেবে সম্মাননা পেলেন আলমগীর কবীর হৃদয়

ইকরাম আকাশের কবিতা বৃষ্টিবিলাস

পত্নীতলায় সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত