
আজ ২ মে, বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গবেষক মোস্তফা কামাল মাহ্দীর জন্মদিন। তিনি বর্তমানে জাতীয় পত্রিকা ‘দেশগ্রাম’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং দেশগ্রাম মিডিয়া সেন্টার ও দেশগ্রাম মিডিয়া প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া উপজেলার বুখইতলা বান্ধবপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তাঁর বাবা আবদুর রব আকন বুখইতলা হাতেমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মা মরহুমা শাহীনা বেগম ছিলেন সুগৃহিণী।
শিক্ষাজীবনে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এর পাশাপাশি বাংলা, ইসলামিক স্টাডিজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং কামিল (তাফসির) বিষয়েও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সাংবাদিকতার ওপর 'জুনিয়র ডিপ্লোমা ইন জার্নালিজম'-ও সম্পন্ন করেছেন।
নব্বইয়ের দশকে বিনোদনমূলক সাপ্তাহিক ‘ছায়াছন্দ’ ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি মঠবাড়ীয়া সমাচার, সাপ্তাহিক খোরাক, সাপ্তাহিক আলোচনা, দৈনিক আলোচনা (সাহিত্য সম্পাদক), সাপ্তাহিক সোনার বাংলা, দৈনিক সংগ্রাম এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের মতো পত্রিকায় কাজ করেছেন। পাশাপাশি 'সাপ্তাহিক আর্থিক খবর', 'মাসিক স্কুল বিচিত্রা' এবং শিল্প-সাহিত্যের কাগজ 'বুনন'-এর নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন সমসাময়িক ম্যাগাজিন 'আয়না' এবং 'সাপ্তাহিক দেশকণ্ঠ' পত্রিকায়।
সাংবাদিকতা ও সাহিত্য সাধনার বাইরেও তিনি বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গেস্ট লেকচারার, হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র ইংরেজি শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন।
লেখালেখির জগতেও তাঁর সরব পদচারণা রয়েছে। তাঁর সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘দিন বদলের পালা’ (২০০৬) এবং ‘কাব্য জোছনা’ (২০১৮)। তাঁর এক ডজনেরও বেশি গ্রন্থ এখনো অপ্রকাশিত রয়েছে। ২০১৮ সালে তাঁর ‘আযানের টানে’ শিরোনামে একটি নাশিদ এবং ‘মায়ের জন্য গান’ নামে দুটি সংগীত প্রকাশিত হয়। সাহিত্যের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে মঠবাড়ীয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দক্ষিণ বাংলা সাহিত্য পদক, মাদারীপুর মিডিয়া সেন্টার পদক, তর্কবাগীশ সাহিত্য পদক, আল্লামা ইকবাল আন্তর্জাতিক পদক এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা লাভ করেছেন। গুণীজনদের সম্মান জানাতে তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছেন শাহীনা রব স্মৃতি পদক, দেশগ্রাম মিডিয়া সেন্টার পদক এবং দেশগ্রাম সাহিত্য সংসদ (দেসাস) পদকসহ বেশ কয়েকটি পদক।
জন্মদিনের এই বিশেষ ক্ষণে দেশবাসী ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই ব্যক্তিত্ব।






































