
মোহাম্মদ আবদুর রহিম, কুমিল্লা দক্ষিণঃ
কুমিল্লা দক্ষিনাঞ্চলের বানিজ্যিক নগরীখ্যাত বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার সবকটি হাটবাজারে এলপিজি ডিলারদের কারসাজি।
প্রতারনার শিকার হচ্ছেন এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।
উপজেলা প্রশাসন বার বার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেও ওইসব এলপিজি অবৈধ ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব থামাতে পারছেনা।
শহর থেকে গ্রামের অলি-গলিতে পাওয়া যাচ্ছে সরকারি নির্ধারিত দামের চাইতে দ্বিগুন দামে এলপিজি গ্যাসের বোতল।
স্থাণীয় ডিলাররা বাসা-বাড়ি ও গোপনীয় গুদামে মজুদ করে রেখেছে শত শত বোতল। তারা বাজারে এলপিজির সংকট দেখিয়ে গোপনে নির্ধারিত দামের চাইতে বাড়তি দামে বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
জানা যায়, দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে।
এ বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ ও এলপিজি অপারেটরদের মধ্যে বৈঠকের পরও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
অন্যদিকে মূল্য সমন্বয় করা ও ‘হয়রানি-জরিমানা’ বন্ধের দাবি পূরণ না হওয়ায় আজ থেকে দেশব্যাপী এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধ রাখবে তারা।
গত সন্ধ্যায় সারা দেশের পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এমন এক নোটিস জারি করে ব্যবসায়ী সমিতি।
এতে বলা হয়, সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান এ সংকটের দ্রুতই কোনো সমাধান নেই।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্যটির ক্রয়াদেশ দেয়ার পর অন্তত ছয় সপ্তাহের মতো সময় প্রয়োজন হয় তা দেশের বাজারে আনতে। এর বাইরে জাহাজ সংকট, ভাড়া বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের প্রতবন্ধকতাও রয়েছে।
চলমান সংকটের কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দেশে এলপিজির এ সংকট আকস্মিকভাবে তৈরি হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বরং দীর্ঘ সময় ধরে আমদানি বৃদ্ধির অনুমোদন না পাওয়া, বিশ্ববাজারে এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আমদানিতে অপারেটর সংকট এবং বাজারে বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানি কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দেশের বাজারে প্রতি বছর যে পরিমাণ এলপিজি আমদানি হয় তার প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্য।
এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বিকল্প সরবরাহকারী এবং দেশের বাজারে ৫০ হাজার টন এলএনজির বিকল্প উৎস তৈরি না হলে সামনের দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয় আমদানিকারকদের।
স্থাণীয় নাম জানাতে অনিচ্ছুক জনৈক এলপিজি ডিলার জানায়, এক বছর আগেও দেশের অন্তত ২৭টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি করত। সেখানে বর্তমানে মূলত পাঁচটি অপারেটর এলপিজি আমদানি করছে বলে জানায় এলপি গ্যাস সমবায় ব্যবসায়ী সমিতি। দেশের বাজারে সাড়ে ৫ কোটি সিলিন্ডার থাকলেও বর্তমানে রিফিল হচ্ছে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখের মতো।
সমিতির দেয়া হিসাব অনুযায়ী অন্তত ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার অব্যবহৃত পড়ে আছে।
এ খালি সিলিন্ডারের বড় অংশ সেসব অপারেটরের যারা আর এলপিজি আমদানি করছেন না।
এসব কোম্পানির এলপিজি আমদানি বন্ধ করা এ খাতে সংকট তৈরির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। দেশের বাজারে ২৮টি কোম্পানি এলপিজি ব্যবসা করে। এর মধ্যে ২৩টি কোম্পানির আমদানির অনুমোদন আছে।
যদিও এখন মূলত পাঁচটি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করছে। অন্যগুলোর আমদানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। কোনো কোনো কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধের পথে। আবার অনেক কোম্পানি ব্যাংক ঋণের কিস্তি শোধেও হিমশিম খাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতি বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরিতে বড় প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে সক্রিয় কিছু কোম্পানি আমদানি বাড়াতে বারবার আবেদন করেও দীর্ঘদিন সরকারের অনুমতি পায়নি।
সূত্রটি আরও জানায়, তবে শীত মৌসুমে পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেকে বাসাবাড়িতে বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের কারণে চাহিদা ও বিক্রি বেড়ে গেছে।
এটাকে আকস্মিক এলপিজি সংকট তৈরি হওয়ার বড় কারণ বলে মনে করছেন তারা। আবার অনেকে মনে করেন, সরবরাহের যে চিত্র উল্লেখ করা হয় তা যথাযথ নয়।
নাম জানাতে অনিচ্ছুক এলপিজি ব্যবসায়ীদের আরেকটি সূত্র জানায়, অপারেটররা এলপিজি সরবরাহের যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে দেশে এ সংকট তৈরি হওয়ার কথা নয়। আমরা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছি। যত দ্রুত সম্ভব এ সংকটের সমাধান করা হবে।
’‘শীত মৌসুমে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি, পাইপলাইনে গ্যাসের চাপসংক্রান্ত জটিলতার বিকল্প হিসেবে এলপি গ্যাসের ব্যবহার এবং বাজার থেকে অনেক অপারেটর সরে যাওয়া এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।’‘এলপি গ্যাসের সংকট নেই বিষয়টি এমন নয়, সংকট আছে। তবে বেশি দামে বিক্রি করারও তো সুযোগ নেই। কিন্তু বাজারে তা হচ্ছে।





























