
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. নাজমুল ইসলাম ও তার সহযোগী রনিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় ফতুল্লার পূর্ব লামাপাড়া এলাকা থেকে নাজমুলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১ এবং রাতে গাজীপুর থেকে রনিকে আটক করে র্যাব-১।
ভিকটিমের দায়ের করা মামলা ও প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ভিকটিম পূর্ব লামাপাড়া এলাকায় আসামিদের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করতেন।
প্রথম গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. নাজমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভিকটিমের স্বামী কাজী সাজ্জাদুল ইসলাম তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে নাজমুল, রনি ও আরও ২-৩ জন মিলে তাকে বাসার সামনে থেকে ধরে নিয়ে যায়।
অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যা করার হুমকি দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন ও নগদ এক হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে আসামিরা ভিকটিমের স্বামীর গলায় ছুরি ধরে সেই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে।
পরে রাত আড়াইটার দিকে নাজমুল ও রনি ভিকটিমের বাসায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে। তারা ভিকটিমকে তার স্বামীর ওপর চালানো নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে ভয় দেখায় এবং হত্যার হুমকি দেয়। এরপর তারা পালাক্রমে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে এবং কাউকে কিছু জানালে তার স্বামীকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। তারা ভিকটিমের মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় যাতে সে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে।
দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব লামাপাড়া এলাকা থেকে প্রধান অভিযুক্ত মো. নাজমুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১। রাতে গাজীপুর থেকে রনিকে আটক করে র্যাব-১।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।





























