
রাজশাহী থেকে ঢাকা হয়ে চট্টগ্রাম—দীর্ঘ রোমাঞ্চকর এক অভিযানের পর অবশেষে অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার ও অপহৃত তরুণীকে উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। প্রযুক্তির ব্যবহার ও ধারাবাহিক তৎপরতায় এই সাফল্য মিলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বোয়ালিয়া মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা ও জালিয়াতি ধারায় একটি মামলা (নম্বর-০৫) দায়ের করা হয়। মামলার প্রধান আসামি মোঃ শাফায়েত হোসেন (২৩), চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বাসিন্দা।
মামলা দায়েরের পরপরই বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তদন্তে নামে। বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলামের নির্দেশনায় এসআই মাসুদ কবিরের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল অভিযানে অংশ নেয়।
পুলিশ জানায়, প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে শাফায়েতের অবস্থান শনাক্ত করা হয় রাজধানী ঢাকায়।
সেখানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আসামিকে না পাওয়া গেলেও পুলিশের জালে ধরা পড়ে তার এক সহযোগী। সেই সহযোগীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের মোড় ঘোরে চট্টগ্রামের দিকে। অবশেষে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ আসামি শাফায়েতকে গ্রেপ্তার এবং অপহৃত তরুণী রোশনিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, শাফায়েত ও তার পরিবার দীর্ঘ দিন ধরে একটি সুসংগঠিত অপহরণ চক্র পরিচালনা করছিল। তারা মূলত বিত্তশালী ও প্রভাবশালী পরিবারগুলোকে টার্গেট করে বিভিন্ন কৌশলে অপহরণের পর মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করত।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, আসামির বাবার বিরুদ্ধে ‘কালোজাদু’ বা তন্ত্র-মন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত ও প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে। এই অতিপ্রাকৃত কৌশলে তারা মানুষকে মানসিকভাবে কাবু করত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বোয়ালিয়া থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ওসি রবিউল ইসলাম জানান, "ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আমাদের তদন্ত চলমান রয়েছে।" মামলার তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।






































