
স্টাফ রিপোর্টার :স্বচ্ছ জলের নিচে নীরবে জন্ম নিচ্ছে এক অদৃশ্য বিপর্যয়। ওপর থেকে শান্ত,অথচ তলদেশে জমে উঠছে প্লাস্টিকের স্তূপ—চিংড়ি ধরার নামে ব্যবহৃত ‘কিরণমালা ছাই। বিশ্বখ্যাত রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর আজ মানবসৃষ্ট এই দূষণের চাপে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,প্রতি বছর বর্ষার শুরুতেই দুই থেকে তিনজন জেলে মিলে দল গঠন করে হাওরে চিংড়ি আহরণে নামেন। প্রতিটি দলই ব্যবহার করে প্রায় ৫০০ থেকে ১,০০০টি প্লাস্টিকের ‘কিরণমালা ছাই। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী,প্রতি মৌসুমে এক হাজারেরও বেশি জেলে দল এ কাজে যুক্ত থাকে। সে হিসেবে প্রতি বছর হাওরের পানিতে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে আনুমানিক ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ প্লাস্টিক ফাঁদ।জেলেরা এসব ফাঁদের ভেতরে দানাদার ফিড বা ময়দার গুল ব্যবহার করেন। খাবারের লোভে চিংড়ি ভেতরে ঢুকে পড়লেও বের হওয়ার পথ থাকে না। তবে মৌসুম শেষে এসব ফাঁদের বড় একটি অংশ আর সংগ্রহ করা হয় না;বছরের পর বছর পানির নিচেই পড়ে থাকে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন,প্লাস্টিক সহজে পচে না; বরং সময়ের সঙ্গে ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় (মাইক্রোপ্লাস্টিক) পরিণত হয়।এই কণাগুলো জলজ প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে পুরো বাস্তুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে।এতে মাছসহ বিভিন্ন প্রাণীর বেঁচে থাকা হুমকির মুখে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে হাওরের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।এ বিষয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর উন্নয়ন ফোরামের সহ-সভাপতি অখিল তালুকদার বলেন,টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের ভান্ডার। কিন্তু চিংড়ি ধরার প্লাস্টিক‘ছাই’ এখন এই হাওরের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।অভিযোগ রয়েছে, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌপথে অবাধে এসব প্লাস্টিক ফাঁদ হাওরে প্রবেশ করছে। নজরদারির ঘাটতি ও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যাটি দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।সচেতন মহলের মতে,এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে একসময় টাঙ্গুয়ার হাওরের তলদেশ প্লাস্টিকের স্তূপে পরিণত হবে। তাই প্লাস্টিক ফাঁদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ,পরিবেশবান্ধব বিকল্প চালু এবং জমে থাকা প্লাস্টিক অপসারণে জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।



























