
মোঃকামরুল হোসেন সুমন,মনপুরাঃ ৩০ মে ২০২৬ (শনিবার) মেঘনা নদীবেষ্টিত ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা। প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এই জনপদ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে নেওয়া হয়েছে যুগান্তকারী উদ্যোগ, যা বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে মনপুরার আর্থ-সামাজিক চিত্র।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় এবং ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (WZPDCL)-এর বাস্তবায়নে “মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ (MIUEPDS)” প্রকল্পের অধীনে আন্তর্জাতিক মানের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, টার্নকি ভিত্তিতে ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন, পরীক্ষণ এবং কমিশনিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রানসহ মোট ২৮ কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে, যা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করবে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সার্বিক তদারকি ও পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকল্পটি এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের আওতায় আনার যে অঙ্গীকার তিনি করেছিলেন, এই প্রকল্পকে তারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।দীর্ঘদিন ধরে মনপুরার বিদ্যুতের দাবিতে সোচ্চার ছিল ঢাকাস্থ মনপুরা উন্নয়ন ফোরাম (DMUF)। সংগঠনটির সভাপতি আলী জাহ আহমেদ মিজান ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাউদ্দীন আহম্মেদ মোল্লার নেতৃত্বে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, আলোচনা সভা, স্মারকলিপি প্রদান এবং জাতীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করা হয়। বিদ্যুতের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সংগঠনটির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মনপুরার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মৎস্য খাত, ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে সীমিত ও ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কারণে উন্নয়নের অনেক সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।বিশেষ করে উপকূলীয় এ দ্বীপের প্রায় ৯০ হাজার মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবাখাতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।স্থানীয়দের ভাষ্য, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ বাস্তবায়িত হলে মনপুরাবাসীর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হবে। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু করবে পুরো দ্বীপ। আর এই ঐতিহাসিক উদ্যোগের মাধ্যমে মনপুরা যুক্ত হবে আধুনিক উন্নয়নের মূল স্রোতে।মনপুরাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে এবং উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এই দ্বীপাঞ্চলে।




























