
সাআদ মাহমুদ। হালুয়াঘাট প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী নেতাই নদে দীর্ঘদিন পর বালুমহালের কার্যক্রম চালু হলেও নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে ওভারলোড বালুবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে হালুয়াঘাট উপজেলার অন্তত ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ অবস্থার প্রতিবাদে এবং অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচল বন্ধের দাবিতে শনিবার বিকেলে উপজেলার বিলডোরা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন বালুমহাল থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ট্রাকে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বালু বোঝাই করে সরু ও আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করে পরিবহন করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে সড়কের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি ও ভারী যানবাহনের চাপ মিলিয়ে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বক্তারা জানান, ধোবাউড়ায় কংস নদের সেতু ভেঙে যাওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে হালুয়াঘাট সদর, গাজীরভিটা, বিলডোরা, শাকুয়াই, আমতৈল ও স্বদেশী ইউনিয়নের সড়ক ব্যবহার করছে বালুবাহী ট্রাকগুলো। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি বালু বহনের কারণে সড়কের পিচ উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশ ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ওভারলোড বালুবাহী ট্রাকের বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কের ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যানবাহন চলাচল নিশ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে সড়কের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে। এতে পণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থী, রোগীসহ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাই সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ বলেন, "ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে, যাতে ওভারলোড ট্রাক এ পথে চলাচল না করে। হালুয়াঘাট সড়কে চলাচলকারী ১০টি ট্রাককে ইতোমধ্যে জরিমানা করা হয়েছে।"
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। আগামীকাল থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
এদিকে, ধোবাউড়ার নেতাই নদের বালুমহালের ইজারাদার হারুন-অর-রশিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।




























