
বিশেষ প্রতিনিধি -ঃ একুশে পদকে ভূষিত উপমহাদেশের প্রখ্যাত ঢোলবাদক কিংবদন্তি শিল্পী বিনয়বাঁশী জলদাস স্মরণে প্রতিষ্ঠিত লোক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও পরম কল্যাণমিত্র, বাংলাদেশের প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বর্ষীয়ান বাম রাজনীতিক, উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ চন্দন দাশের মৃত্যুতে বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।শনিবার (৩০ মে) সকাল ১১টায় নগরীর চেরাগি পাহাড়ে উদীচী কার্যালয়ের নিচে আজাদী চত্বরে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রয়াত ডাঃ চন্দন দাসের মৃতদেহটি রাখা হয়।এ সময় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিনয়বাঁশী শিল্পীগোষ্ঠীর প্রধান উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক ঢোলবাদক শিল্পী বাবুল জলদাস, শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক শিল্পী ও সংগঠক বিপ্লব জলদাস।এ সময় নানান শ্রেণী পেশার মানুষ শোকসভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তাঁর স্মৃতিচারণ, বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এর আগে সকাল ১০টায় নগরীর হাজারী লেইনে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সামনে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২৯ মে সকাল সাড়ে ১০টায় নগরীর পাথরঘাটার বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।উল্লেখ্য সাতকানিয়া উপজেলায় এক প্রগতিশীল সংস্কৃতিমনা পরিবারে ১৯৫২ সালে চন্দন দাশ জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনেই বামপন্থী রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি। তিনি রাঙামাটি কলেজে পড়ার সময় ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন।সত্তরের দশকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন। এরপর চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। সংস্কৃতি অন্তঃপ্রাণ ডাঃ চন্দন দাশ চট্টগ্রামে উদীচীর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিলেন। আমৃত্যু তিনি উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের একাধিকবার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু সত্যেন সেন-রণেশ দাশগুপ্তের আদর্শ ধারণ করে তিনি উদীচীর কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের প্রতি বৈষম্য-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক গণআন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি সারাদেশে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামেও তিনি ছিলেন অবিচল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন। তিনি গণজাগরণ মঞ্চ, চট্টগ্রামের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ চট্টগ্রামের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক। নববর্ষ উদযাপন পরিষদ (সিআরবি), চট্টগ্রামের সহ-সভাপতিও ছিলেন।সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশাপাশি বামপন্থী রাজনীতিতেও ডা. চন্দন দাশ সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করে গেছেন। একজন মার্কসবাদী তাত্ত্বিক হিসেবেও তিনি বাম রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নব্বই পরবর্তী বিভক্তির হাত থেকে কমিউনিস্ট পার্টিকে রক্ষায় তিনি দৃঢ় ভূমিকায় ছিলেন। এছাড়া চিকিৎসক গণসংগঠন ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (ডেন), চট্টগ্রামের সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।বিদেশে অবস্থানরত প্রয়াতের সন্তান দেশে ফেরার পর তাঁর শেষকৃত্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।




























