
কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপিলের শুনানি একমাস পর করলে আন্দোলন আরও বেগবান হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) রওশনপন্থী নেতারা। তাই কোনোভাবেই কালক্ষেপণ না করে আগামী রোববার সুপ্রীম কোর্টে আপিলের শুনানি করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন রওশনপন্থী জাপা নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, আমরা এক ক্রান্তিলগ্নে আপনাদের সামনে কিছু কথা বলার জন্য হাজির হয়েছি। গোটা দেশে এখন কী পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা আপনারা সবাই জানেন। এ বিষয়ে কিছু কথা বলার আগে আমি প্রথমেই কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং পরিবার-পরিজনদের সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। ছাত্রদের এই আন্দোলন সম্পর্কে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে- ছাত্রদের দাবি যৌক্তিক এবং আমরা তা সমর্থন করি। কারণ ছাত্ররা কোটার সম্পূর্ণ বাতিল চায়নি। তারা সংস্কার চেয়েছে। দেশে সরকারি চাকরির ৫৬% কোটার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে- এটা আমরাও মানতে পারি না। কারণ তাহলে মেধার মূল্যায়ন হয় না। ছাত্ররা চেয়েছে কোটা থাকবে। তবে তা বিশেষ ক্ষেত্রে এবং তার হার ৫% শতাংশের বেশি নয়। এসব বিষয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই মিমাংসা করা উচিৎ ছিল।
তিনি আরও বলেন, কোটা যেখানে সরকারই বাতিল করেছিলেন- সেটা হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হলো। হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, কোটা থাকবে। তবে কোটার হার কমানো বা বাড়ানোর এখতিয়ার সরকারের হাতে থাকবে। ফলে রায় অনুসারেই সরকারের পক্ষে ছাত্রদের দাবি মেনে নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সরকারের পূর্বের সিদ্ধান্ত এবং ছাত্রদের বর্তমান দাবির মধ্যে বিপরীতমুখিতা নেই। সরকার এর আগে বাতিল করেছিলেন এবং ছাত্ররা এখন সংস্কার চেয়েছে। এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় হওয়া সম্ভব ছিলো। কিন্তু পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ফেলা হয়েছে।
কোটা নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিলের শুনানির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এই পর্যায়ে এ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রীম কোর্টের শুনানি এগিয়ে নিয়ে এসে সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তাই আমরা দাবি জানাবো- কোনোভাবে কালক্ষেপণ না করে আগামী রোববারই সুপ্রীম কোর্টে মেনশন করে- সিভিল আপিলটি দ্রুত শুনানি করা হোক। এর জন্য এক মাস দেরি করতে হবে কেন? তাতে যদি আন্দোলন আরও বেগবান হয়- কিংবা যদি আরও প্রাণহানি ঘটে- তার দায়-দায়িত্ব কে নেবে?
আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, সাধারণ ছাত্রদের এই আন্দোলন দমন করতে ছাত্রলীগকে নামানো হলো কেন? এই সুযোগ নিয়ে- অন্যান্য ছাত্র সংগঠনও কোটা সংস্কারের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। ফলে এতদিন যে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিলো- সেটা এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। তাই আমরা দাবি জানাবো- অবিলম্বে ছাত্রলীগকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া হোক। অন্যথায় সহিংসতা এবং প্রাণহানি আরও বেড়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ সময় তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের একটি গ্রহণযোগ্য ও সম্মানজনক সমাধানের জন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাপা নেতারা বলেন, আমরা আর কোনো রক্তপাত, প্রাণহানি, সহিংসতা, জনদুর্ভোগ দেখতে চাই না। অচিরেই কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিসমাপ্তি দেখতে চাই। আন্দোলনরত ছাত্রদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই যে- তোমরা কোনোভাবেই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে যেও না- যেটা সুযোগ সন্ধানীরা ব্যবহার করতে না পারে। আমরা বিশ্বাস করি কোটা সংস্কারের এই আন্দোলন অবশ্যই সফল হবে। সরকারের প্রতি আমাদের দাবি এ বিষয়ে আর জল ঘোলা না করে অচিরেই আইনগত এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক।







































