
আরাফাত আলী, স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্যে জড়িত একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভয়াবহ অনিয়ম উন্মোচিত হয়েছে জেলা সিভিল সার্জনের সরেজমিন অভিযানে। সরকারি অনুমোদন, বৈধ লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানে গড়ে উঠেছিল দালালনির্ভর কমিশন বাণিজ্য ও অপচিকিৎসার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আব্দুস সালাম কালিগঞ্জ উপজেলার লাইফ কেয়ার হাসপাতাল, নলতা হাসপাতাল এবং নলতা ডায়াবেটিক্স অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম তাঁর নজরে আসে।
সিভিল সার্জনের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের নেই বৈধ ও নবায়নকৃত লাইসেন্স। অনেক স্থানে অনুপস্থিত এমবিবিএস চিকিৎসক, ডিপ্লোমা নার্স ও প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনোলজিস্ট। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তর ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল।
গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় নলতা ডায়াবেটিক্স অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ক্লিনিক সেকশন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতার অভাবে নলতা হাসপাতালের সরকারি অনুদান স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইউনিটে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও বৈধ কাগজপত্রের ঘাটতি ধরা পড়ে। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি গত তিন বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, গ্রাম্য ডাক্তার ও দালালদের মাধ্যমে রোগী ভাগাভাগি করে বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। এতে রোগীদের জীবন ও স্বাস্থ্য ছিল চরম ঝুঁকির মুখে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আব্দুস সালাম বলেন,“আইন মেনে ক্লিনিক পরিচালনা করতেই হবে। লাইসেন্স, বৈধ কাগজপত্র ও প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে দেওয়া হবে না। যেসব ক্লিনিকের কাগজপত্র ও অবকাঠামো নেই, সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার (রেজিস্ট্রেশন) আইন, ২০১০ অনুযায়ী নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। একই সঙ্গে অবৈধ চিকিৎসা, ভুয়া রিপোর্ট প্রদান ও নানা অনিয়ম দণ্ডবিধি ১৮৬০, ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
কালিগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, এ অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে অবৈধ চিকিৎসা বাণিজ্যের কারণে আর কোনো মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে।





























