
মোঃ রায়হান মাহামুদ :
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও স্বর্ণালংকার-নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসী জসিম উদ্দিন পালোয়ান, তাঁর বাবা-মা, স্ত্রী ও ভাবী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় জসিম উদ্দিনের স্ত্রী সামিয়া আক্তার (১৯) কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৮-৯ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন—জয়নাল মোল্লা (৬০), অলিউল্লাহ মোল্লা (৪০), খোকন মোল্লা (৪২), মনির মোল্লা (৫৫), এমরান মোল্লা (২৮), সৌরভ (২০), ফিরোজ মোল্লা ফিরু (৬৪), ফেরদৌসি বেগম (২৫), বিলকিছ বেগম (৩৩), মোক্তা বেগম (২৬), মিনারা বেগম (৪৫), আশ্বিক মোল্লা (২০), সজিব মোল্লা (২০) ও শিমুল (১৯)। তাঁরা সবাই কালীগঞ্জের বড়গাঁও এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জসিম উদ্দিন সৌদি আরবপ্রবাসী। প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে এলাকায় থাকতে হলে টাকা দিতে হবে এবং না দিলে সুযোগ পেলে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ আগস্ট দুপুরে বড়গাঁও এলাকার নিজ বাড়িতে জসিম উদ্দিনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁর স্ত্রী। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, চাপাতি, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে জসিমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়।
জসিমকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর বাবা নাজিম উদ্দিন পালোয়ান (৭৬), মা মনোয়ারা বেগম (৬৮), স্ত্রী সামিয়া আক্তার ও ভাবী নিপা খন্দকার (৪০) মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এতে নাজিম উদ্দিনের পায়ে গুরুতর আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তাঁর স্ত্রী ও পুত্রবধূরাও আহত হন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা নিপা খন্দকারের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল নিয়ে যায়। এছাড়া ঘরের আলমারি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। একই সময় আলমারিতে থাকা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সামিয়া আক্তারের প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জসিম উদ্দিনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাঁকে পুনরায় গাজীপুরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























