
বাংলাদেশের কৃষকদের দীর্ঘদিনের অন্যতম অভিযোগ হলো উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া। কৃষক মাঠে যে দামে পণ্য বিক্রি করেন, তা ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে উৎপাদক ও ভোকতা উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই বাস্তবতায় কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনাকে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। সেই আলোচনায় উঠে এসেছে গ্রো আপ এগ্রোটেক লিমিটেডের নাম।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা কৃষি অর্থায়নের পাশাপাশি বাজার সংযোগের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও যদি কৃষক ন্যায্যমূল্য না পান, তাহলে কৃষির টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশের কৃষি বাজারে এখনও মধ্যস্বত্বভোগীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। অনেক সময় কৃষককে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হয়। অন্যদিকে বাজারে সেই পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে। ফলে লাভের বড় অংশ কৃষকের হাতে পৌঁছায় না।
গ্রো আপ মনে করে, সংগঠিত বাজার সংযোগ এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এই সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। কৃষক যদি বাজারের চাহিদা, মূল্য পরিস্থিতি এবং ক্রেতাদের সম্পর্কে আগাম তথ্য পান, তাহলে তারা আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।
প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ করার কথাও বলছে প্রতিষ্ঠানটি। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কৃষক ও বাজারের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বের অনেক দেশে কৃষিপণ্য বিপণনে প্রযুক্তির সফল ব্যবহার দেখা গেছে। অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সরাসরি ক্রেতা-উৎপাদক সংযোগ এবং তথ্যভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণ কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশের কৃষি খাতেও এই ধরনের উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। গ্রো আপ এগ্রোটেকের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
শুভ্র/




























