
২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের (সংশোধিত) এক দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং বাংলাদেশের জিডিপির শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ উল্লেখ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সেবা খাতে দুর্নীতি জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরে।
টিআইবির জরিপের ফলাফল অনুসারে, ৫৯ দশমিক ৬ শতাংশ পরিবার (খানা) অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি বা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানে না এবং দুর্নীতির শিকার পরিবারের সমূহের মাত্র ৮ দশমিক ৫ শতাংশ অভিযোগ করেছে।
জরিপের ফলাফলের সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে সার্বিকভাবে ৭০ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার দুর্নীতির শিকার। সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্থ তিনটি খাত হলো- পাসপোর্ট, বিআরটিএ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এ ছাড়া একই বছর সার্বিকভাবে ঘুষের শিকার হওয়া হার ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ।
গবেষণার জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে সার্বিকভাবে খানা প্রতি গড়ে ৫ হাজার ৬৮০ টাকা ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ দিতে বাধ্য হয়েছে। সর্বোচ্চ ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ আদায়ের তিনটি খাত হলো- বিচারিক সেবা, বিমা ও ভূমি সেবা।
আরোও দেখা গেছে, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে সেবাখাতে ঘুষের শিকার হওয়ার হার বেশি (৪৭.৪ শতাংশ বনাম ৫২.৪ শতাংশ) এবং ঘুষের শিকার হওয়া গ্রামাঞ্চলের খানার তুলনায় শহরাঞ্চলের খানাগুলোকে বেশি পরিমাণে ঘুষ দিতে হয়েছে (৫,০৯০ টাকা বনাম ৭,০৮৬ টাকা)।
এই বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সেবাখাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবস্থান ও পরিচয় নির্বিশেষে আইনানুগভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিভাগীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সব খাতের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে "ওয়ান স্টপ" সার্ভিস চালু করতে হবে এবং তার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সেবাদানের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাগত মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে পদোন্নতি, পদায়নের ব্যবস্থা, অপরদিকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পদোন্নতি, পদায়ন ও পুরস্কার দেওয়া বন্ধ করতে হবে। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণশুনানি ও সামাজিক নিরীক্ষার মতো জনগণের অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাগরিক সনদে সেবার মূল্য ও সেবা প্রাপ্তির সময় সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।







































