
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের থানসিংহপুর গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডে আলাই নদীর ওপর সরকারি অর্থায়নে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। ব্রিজটি চালু হওয়ায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন যাতায়াত এখন অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বছরের অধিকাংশ সময় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে আলাই নদী পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নৌকার ওপর নির্ভরশীলতা, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সময়ের অপচয় ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারত না, রোগীদের হাসপাতালে নিতে হতো ঝুঁকি নিয়ে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সাবু বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গ্রাম উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা স্থানীয় মানুষের কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাচ্ছি। আলাই নদীর ওপর এই ব্রিজটি নির্মাণের ফলে হাজারো মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”
৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্কাছ আলী বলেন, “এই ব্রিজটি আমাদের এলাকার মানুষের বহুদিনের দাবি ছিল। চেয়ারম্যান মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় তা বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন, শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে।
স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়া তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আগে নদী পার হতে গেলে অনেক ভয় লাগতো, বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে চলাফেরা করা খুব কষ্টকর ছিল। এখন ব্রিজ হওয়ায় আমরা অনেক স্বস্তিতে আছি। সময়ও বাঁচছে।”
থানসিংহপুর জামে মসজিদের ইমাম আজিজুল হক বলেন, “এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। একটি ছোট ব্রিজ যে একটি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, এটি তারই উদাহরণ। আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
ব্রিজ নির্মাণের ফলে থানসিংহপুর গ্রামের সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গ্রামবাসীরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই কাঠের
ব্রিজ স্থলে একটি স্থায়ী পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হবে, যাতে করে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হয়।





































