
পাকুন্দিয়া(কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধিঃ গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নুর আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক ভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক গণ সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় এ জাবি জানান। তিনি বলেন- "বাংলাদেশের কথিত সৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে বসে,ভারতের প্রেসক্রিপশনে এই দেশে অরাজকতা তৈরী করার জন্য আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদেরকে উস্কানী দিচ্ছে। অথচ মূল নেতারা কিন্তু নিরাপদে দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। কাজেই দেশে অবস্থানরত সাধারণ আওয়ামীলীগার,নিরীহ আওয়ামীলীগার,যারা জনগণের উপর অত্যাচার- নির্যাতন চালান নাই, গুম-খুন চালান নাই,তাদেরকে বলবো- আপনারা জনগণের কাছে ক্ষমা চান,এলাকার মানুষের কাছে ক্ষমা চান। মানুষ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে। কিন্তু যারা বিগত ১৫/ ১৬ টি বছরের ক্ষমতাকে এই ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করে জনগণের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছেন, মামলা- হামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছেন তাদের কোন ক্ষমা নাই। সরকারকে আমরা বলেছিলাম- আওয়ামী লীগের মত ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল,গণ হত্যাকারী খুনির দল,এদেরকে যদি বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ না করা হয়, আগামীর বাংলাদেশে এ রকম ফ্যাসিস্ট তৈরি হবে,খুনি সৈরাচার তৈরি হবে, কাজেই আমরা বারবার ছাত্র-জনতা রক্তে,নাগরিকদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হতে দেখতে চাই না। আমরা চাই এ-ই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার চিরতরে বিলুপ ঘটুক। আওয়ামীলীগ রাজনৈতিক ভাবে নিষিদ্ধ হোক এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ জনসমর্থক, নিরিহ নেতাকর্মী, তারা প্রয়োজনে নতুন নামে নতুন ভাবে রাজনৈতি করবে। কিন্তু ডাকাত,খুনি,সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের নামে এই দেশে রাজনীতি করার কোন জায়গা নাই।" গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নুর আরো বলেছেন,"এই দেশে যারাই ক্ষমতায় আসে, কেউ ভারতের গোলামি করে, কেউ পাকিস্তানের গোলামি করে। কেউ মার্কিনপন্থি, কেউ চীনপন্থি। কিন্তু আমরা বারবার বলেছি কোনো পন্থি হয়ে বাংলাদেশকে ঝুঁকিতে ফেলা যাবেনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্ব ভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলা যাবেনা। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশ পন্থি রাজনৈতিক দল হতে হবে। " শনিবার বিকেলে (৮ফেব্রুয়ারি) কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর সদর ঈদগাহে উপজেলা গণ-অধিকার পরিষদ আয়োজিত গণ-সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, "স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’ দুর্বৃত্তদের কে ধরার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অভিযানকে স্বাগত জানাই। দেশে অবস্থানরত আওয়ামী দুর্বৃত্তদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনী পুলিশ, র্যাব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাত্র-জনতা নাগরিক যৌথভাবে কাজ করবে। তবে নিরীহ একটা মানুষের সাথে অন্যায় করবেন না। কারো বাড়িতে আগুন জালিয়ে দেওয়া, কারো বিল্ডিং ভেঙে দেওয়াকে আমরা সমর্থন করিনা। কারণ, পৃথিবীর ইতিহাসে বিপ্লবের পরে প্রতি বিপ্লব হয়। ক্যুর পরে পাল্টা ক্যু হয়। বাংলাদেশেও ৭৫পরবর্তী খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা ক্যু পাল্টা ক্যু দেখেছি। বাংলাদেশের বর্তমান যে সময় এই সময়টা খুব বেশি ভালো হবার সময় না। এই সময় অস্থিরতা তৈরি করার জন্য দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য দেশি-বিদেশী নানা চক্র কাজ করছে। সেই ক্ষেত্রে গণঅভ্যুত্থানের শক্তি সমূহকে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামির বাংলাদেশকে বিনির্মাণের জন্য এখানে একটি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে।" তিনি বলেন, "কেউ আমাকে একটি স্লীপ ধরিয়ে দিয়েছে। নতুন সিন্ডিকেট করে পাকুন্দিয়া থেকে কিশোরগঞ্জের ভাড়া নাকি ৩০থেকে ৫০টাকা করেছে। ইউএনও সাহেব নাকি অনুমতি বিহীন এই গনহত্যার ছাত্র-জনতার ওপর হামলাকারী মামলার আসামি তাদের বালু উত্তোলনের ব্যবসার টেন্ডার দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের উৎপাতে মানুষ আবার অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। এই লক্ষণ কিন্তু কারো জন্য ভালো না। বেশি দূর যাওয়া লাগবে না। খুব নিকট অতীতেই আওয়ামীলীগের নিষ্ঠুর পতন আপনারা দেখেছেন। " উপজেলা গণ-অধিকার পরিষদের আহবায়ক শহীদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, গণ-অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন ও কিশোরগঞ্জ জেলা গণ-অধিকার পরিষদের আহবায়ক নাসির উদ্দিন লিটন প্রমুখ।





























