
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া রেজিস্ট্রি অফিসপাড়া এলাকায় এক মাদকাসক্ত যুবকের ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক চুরির অভিযোগ থাকলেও প্রকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কওছার আলী (৩০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে এলাকায় একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করে আসছেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সর্বশেষ গত ২০ ডিসেম্বর ভোরে কওছার আলী স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে কচু ও কলা চুরির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় রফিকুল ইসলামের স্ত্রী নূর জাহান বাধা দিলে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অভিযুক্তকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতির আগেই কওছার আলী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে চুরির বিষয়টি আড়াল করে ঘটনাটিকে মারপিটের মামলা হিসেবে রূপান্তর করা হয় এবং পাল্টা এজাহার গ্রহণ করা হয়। ওই মামলায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও এক সাংবাদিকসহ পাঁচজন নিরীহ ও সম্মানিত স্থানীয় বাসিন্দাকে আসামি করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়িয়ে দিয়ে হয়রানির শিকার করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে যারা চোর ধরেছে, তাদেরই আসামি করা হয়েছে। এতে আমরা সবাই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি।”
সচেতন এলাকাবাসী ঘটনার নিরপেক্ষ ও পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রকৃত অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।





























