
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (ডিজিএফপি) ৩১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় যুব কাউন্সিল গঠন করেছে। উক্ত কাউন্সিল জনসংখ্যা, উন্নয়ন এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার (এসআরএইচআর) বিষয়ক কাজ করবে। সরকারের সহযোগিতায় গঠিত এ কাউন্সিলটি দেশে এসআরএইচআর বিষয়ে প্রথম জাতীয় পর্যায়ের যুব প্ল্যাটফর্ম।
জাতীয় যুব কাউন্সিল গঠনের আগে গত ১৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস’ সোসাইটি (বিএমএসএস) ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। ওই সমঝোতার ভিত্তিতেই কাউন্সিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলো।
নবগঠিত কাউন্সিলের চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএমএসএসের সাবেক সভাপতি ডা. ইফতেখার আহমেদ সাকিব। কো-চেয়ার হিসেবে রয়েছেন ডা. শাহজালাল হোসেন সিয়াম এবং মেডিকেল শিক্ষার্থী নিশাদ তাসনিম। কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ রিফাদ মাহমুদসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী মোট ৩১ জন যুব প্রতিনিধি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত জাতীয় যুব কাউন্সিলের উদ্বোধনী সভায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর (ডিজিএফপি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. মনজুর হোসেন (প্রোগ্রাম ম্যানেজার, এ অ্যান্ড আরএইচ), ডা. মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার (লাইন ডিরেক্টর, ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারি), মিসেস মর্জিয়া হক (পরিচালক, এমআইএস), মো তসলিম উদ্দিন খান (পরিচালক, আইএম) এবং ডা. নাসির আহমেদ (পরিচালক, এমসিএইচ সার্ভিসেস)
এই জাতীয় যুব কাউন্সিল জনসংখ্যা, পরিবার পরিকল্পনা এবং এসআরএইচআর-সংক্রান্ত নীতি ও কর্মসূচি বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেবে। কাউন্সিলটি ডিজিএফপির অধীনে একটি স্থায়ী সচিবালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস সোসাইটি এবং ইউএনএফপিএ, ইউএসএআইডি ও আইপাসসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে। কাউন্সিলটি এসআরএইচআর-সম্পর্কিত নীতি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও প্রচারে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে তাদের মতামত তুলে ধরবে।
এ উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি জেলায় জাতীয় যুব দূত (ন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাম্বাসাডর) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একজন পুরুষ ও একজন নারী এই দুইজন করে যুব দূত স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, সেবাদানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সমস্যা ও অভিজ্ঞতা জাতীয় যুব কাউন্সিলের কাছে তুলে ধরবেন।
জনসংখ্যা ও উন্নয়ন খাতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার এই উদ্যোগটি সরকারের যুববান্ধব নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।







































