
দূষণে নাকাল রাজধানীর ধানমন্ডি লেক। পানি দূষণের কারণে হুমকিতে পড়েছে মাছসহ জলজ প্রাণী, বেড়েছে হকার সংখ্যাও। ব্যক্তিগত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায়ও ব্যবহার হচ্ছে লেকের পানি, যা বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ লেকের পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকরী উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এদিকে, দূষণরোধে হকারদের আধিপত্য কমাতে খাদ্যদ্রব্যসহ পণ্য না কেনার পরামর্শ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের।
ঢাকার নাগরিকদের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য জনপ্রিয় স্থান ধানমন্ডি লেক। কোলাহলপূর্ণ শহরে এ লেক যেন এক টুকরো শান্তি, বিনোদন আর বৈচিত্র্যতার মিলনমেলা। তবে, ধানমন্ডি লেকে আবর্জনার স্তূপ আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এখানে ঘুরতে আসা অনেকের কাছে অস্বস্তির কারণ উঠছে।
বিশাল এ জলাধারটি এখন অনেকেই ব্যবহার করছেন ব্যক্তিগত কাজে। গোসল থেকে শুরু করে কাপড় ধোয়ার কাজও হচ্ছে হরহামেশায়। এতে পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
এদিকে খাবারের প্যাকেট, চায়ের কাপ, পলিথিনসহ বিভিন্ন উচ্ছিষ্ট লেকের চারপাশেই যেন তৈরি করেছে অদৃশ্য বর্জ্যের দেয়াল। যার বড় অংশই আসে লেকপাড়ের বিভিন্ন দোকানপাট আর হকারদের কাছ থেকে।
কাজের ফাঁকে বিনোদন আর প্রশান্তির খোঁজে ঘুরতে আসা নগরবাসী লেকের প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ঢাকার নাগরিকদের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য জনপ্রিয় স্থান ধানমন্ডি লেক।
এদিকে হকারদের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য দর্শনার্থীদেরই দায়ী করছে সিটি করপোরেশন। আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও দেখভালের দায়িত্ব চায় ধানমন্ডি সোসাইটি।
ধানমন্ডি সোসাইটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. তারেক রহমান সময় সংবাদকে বলেন, লেককে দূষণমুক্ত করতে প্রায় ৪০ মণ মরা মাছ তোলা হয়েছে। লেকটাতে যদি কাজ করার সুযোগ পায় সোসাইটি, তাহলে আমরা দেখিয়ে দিতে পারতাম কীভাবে এটা উন্নত করা যায়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, এখানে অনেক দোকান ও বাদামওয়ালা আছেন। এখানে যদি নাগরিকরা জিনিসিপত্র তাদের কাছ থেকে না কিনেন, তাহলে এটা কমে যাবে। ধীরে ধূীরে আগের জায়গায় ফিরে আসবে।
পরিবেশবান্ধব নয় এমন প্রকল্প আর বাণিজ্যিকীকরণ লেকের অকাল ধ্বংসের কারণ বলে মনে করেন স্থপতি ইকবাল হাবিব। এজন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিমাতাসুলভ আচরণকেও দায়ী করেন তিনি।
পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নগরীর ফুসফুস খ্যাত এ জলাধারকে বাঁচাতে এখনই সচেতন হওয়ার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।







































