
নারায়ণগঞ্জে সরকারি হাসপাতালগুলোতে একই বাজেট থাকা সত্ত্বেও বিশেষ দিনে রোগীদের খাবার পরিবেশনে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ বেশি জোরালো।
গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে বিভিন্ন হাসপাতালে সেই খাবারের ধরন ও পরিমাণে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই দিন রোগীদের পোলাও, মুরগির রোস্ট, সিদ্ধ ডিম ও এক টুকরা মাছ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে মাছ বাদ দিয়ে দুই পদে খাবার পরিবেশন করা হয়।
এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। হাসপাতালের একাধিক রোগী বলেন, “একই সরকারি টাকায় অন্য হাসপাতালে বেশি ভালো খাবার দেওয়া হলে এখানে কম কেন? আমরা তো কম রোগী না, আমাদেরও একই অধিকার আছে।”
আরেক রোগীর স্বজনের ভাষ্য, “বিশেষ দিনে একটু ভালো খাবার পাব; এই আশা থাকে। কিন্তু এখানে তা হয়নি।”
আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান বলেন, বিশেষ দিন উপলক্ষে ঠিকাদারকে মানবিক হওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। “তাদের বলেছি, সবসময় তো ব্যবসা করেন, অন্তত এদিন রোগীদের জন্য একটি পদ বাড়ান। তারা সেটি রেখেছে এবং সামনে পহেলা বৈশাখেও ভালো খাবার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে, ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের সুপার ডা. আবুল বাশার দাবি করেন, নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই তিন বেলা খাবার দিতে হয় এবং সেই বাজেট থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স কেটে রাখা হয়। তাঁর মতে, অন্য কোথাও বেশি পদ দেওয়া হলে সেটি বাইরের সহযোগিতায় হতে পারে।
তবে এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মারুফ। তিনি বলেন, “সাধারণত যেসব বিশেষ খাবার দেওয়ার কথা, সেগুলোই দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি আলাদাভাবে অনুরোধ করত, তাহলে অতিরিক্ত পদ রাখা সম্ভব ছিল।”
এদিকে জানা গেছে, ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ঠিকাদারকে জ্বালানি খরচ বহন করতে হয় না। বিপরীতে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ঠিকাদারদের খাবারের পাশাপাশি জ্বালানি ব্যয়ও বহন করতে হয়। তবুও সেখানে বেশি পদে খাবার দেওয়া হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে; একই বাজেটে কেন এই বৈষম্য?
স্থানীয়দের মতে, বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সব সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জন্য সমমানের খাবার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।




























