
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় জরুরি প্রসূতি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সিজারিয়ান (সিজার) সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন গর্ভবতী নারী ও তাদের অনাগত সন্তান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে কর্মরত সর্বশেষ গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গত ৪ মে ২০২৪ বদলি হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত নতুন কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শুধুমাত্র স্বাভাবিক প্রসব সেবায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। জটিল কোনো রোগী এলেই তাৎক্ষণিকভাবে অন্য হাসপাতালে রেফার করা ছাড়া বিকল্প থাকছে না।
কেন্দ্রটির ফিমেল মেডিকেল অ্যাটেনডেন্ট লুৎফুন নাহার বেগম বলেন,“প্রতিদিনই আমরা অনেক গর্ভবতী মাকে সেবা দিচ্ছি এবং স্বাভাবিক ডেলিভারি করাচ্ছি। কিন্তু জটিল পরিস্থিতি তৈরি হলে ভীষণ অসহায় বোধ করি। এখানে সিজারের ব্যবস্থা না থাকায় রোগীর জীবনঝুঁকি এড়াতে দ্রুত অন্যত্র পাঠানোই একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়ায়।”
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার বাদশা আলম সরকার বলেন,এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও গাইনি বিশেষজ্ঞের অভাবে আমরা পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে পারছি না। বিশেষ করে জরুরি সিজার সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। দ্রুত একজন অভিজ্ঞ গাইনি চিকিৎসক নিয়োগ এখন সময়ের দাবি।”
ভুক্তভোগী এক প্রসূতির স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“সরকারি হাসপাতালে এসেও যদি সিজারের মতো জরুরি সেবা না পাই, তাহলে আমরা কোথায় যাব? হঠাৎ করে অন্য হাসপাতালে যেতে বলা হয়, এতে রোগীর ঝুঁকি যেমন বাড়ে, তেমনি আমাদের খরচও বহুগুণ বেড়ে যায়।”
আরেকজন প্রসূতি নারী বলেন,“আমরা গ্রাম থেকে আসি, দূরের হাসপাতালে যাওয়া খুব কষ্টকর। এখানে যদি সব সেবা থাকতো, তাহলে অন্তত নিরাপদে সন্তান জন্ম দিতে পারতাম।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘদিন গাইনি বিশেষজ্ঞ না থাকা শুধু অব্যবস্থাপনারই নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ধরনের হুমকি। তারা অবিলম্বে গাইনি চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সিজার সেবা চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।





























