
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা থেকে:
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুরে অবস্থিত ঐতিহাসিক মীরের বাগান প্রাঙ্গণে বসেছে বহুল পরিচিত ‘ইচ্ছা পূরণের মেলা’। পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মেলায় ইতোমধ্যেই হাজারো দর্শনার্থীর ঢল নেমেছে। ধর্মীয় বিশ্বাস, মানত এবং লোকজ সংস্কৃতির অনন্য মেলবন্ধনে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে মীরের বাগান মানত পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এখানে এসে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। অনেকে মানত অনুযায়ী খিচুড়ি রান্না করে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেন, আবার কেউ মাজারে দান-খয়রাত করেন।
মেলায় আগত দর্শনার্থী খিজির উদ্দিন বলেন, “ব্যক্তিগত নানা সমস্যার সমাধানের আশায় এখানে এসেছি। মানত করেছি, তাই খিচুড়ি রান্না করে সবার মাঝে বিতরণ করছি।
মীরের বাগানে অবস্থিত শাহ্ সুলতান গাজী জামে মসজিদের খাদেম মুহাম্মদ আলী আশরাফি জানান, “এ মেলার ইতিহাস অনেক পুরোনো। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে আসে এবং তাদের মনের আশা পূরণের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ ও রমজান মাসে এখানে জমজমাট এই মেলার আয়োজন করা হয়। সময় যত গড়াচ্ছে, দর্শনার্থীর সংখ্যাও তত বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি মেলা নয়—এটি বিশ্বাস ও আস্থার প্রতীক।
উল্লেখ্য, প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক নিদর্শন মীরের বাগান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের জন্য সুপরিচিত। ১০১১ সালে নির্মিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট শাহ্ সুলতান গাজীর মসজিদ ও সংলগ্ন মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই পবিত্র স্থান। দীর্ঘদিন জঙ্গলে ঢাকা পড়ে থাকা স্থাপনাটি ১৯০০ সালে দরবেশ সৈয়দ ওয়াজেদ আলীর উদ্যোগে পুনরাবিষ্কার ও সংস্কার করা হয়।
স্থাপত্যশৈলীতে আয়তাকার কাঠামোর ওপর নির্মিত এই প্রাচীন মসজিদের পাশেই রয়েছে শাহ্ সুলতান গাজী, মীর মোশাররফ হোসেন ও ইবনে শরফ উদ্দিন হোসেনের মাজার—যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, একসময় পুরো এলাকা ঘন জঙ্গলে আচ্ছাদিত ছিল। পরবর্তীতে তা পরিষ্কার করে বাগান তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকেই ‘মীরের বাগান’ নামের উৎপত্তি। কেউ কেউ মনে করেন, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মীর জুমলার নামের সঙ্গেও এ নামের সম্পর্ক থাকতে পারে।
ধর্মীয় আবেগ, ঐতিহ্য এবং লোকবিশ্বাসের সম্মিলনে প্রতিবছর আয়োজিত এই মেলা গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।





























