
মজমুল হক গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি :
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানি থেকে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইতিমধ্যে তিস্তা অববাহিকায় থাকা চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শতশত বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টার দিকে ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫ সেমি: উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। খুলে দেয়া হয়েছে তিস্তা ব্যারেজের চুয়াল্লিশ টা জল কপাট। এটা থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে পরবর্তী কয়েক ঘন্টার মধ্যে গঙ্গাচড়া এলাকায় তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বড় ধরনের বন্যা সৃষ্টি হতে পারে।
ইতিমধ্যে পানিতে তলিয়ে যাওয়া পরিবার গুলো দুর্ভোগে পড়ে গেছে। শিশুসহ বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। কেউ কেউ নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। সেখানে গবাদি পশু গুলোর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। সড়িয়ে নেয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে।
কারও বাড়িতে হাটু পানি,কাহারও কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। ফলে তারা বাড়িতে চুলা জ্বালাতে পারছেনা। তারা শুকনা জাতীয় খাবার রুটি সহ আনুষাঙ্গিক খাবার খেয়ে দিন পার করছেন। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব।
এদিকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হচ্ছে লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন। ইতিমধ্যে এই ইউনিয়নের চর মান্দ্রাইন,চরসংকরদহ, পশ্চিম ইচলী, ইচলী বাগের হাট, এছাড়াও নোহালী ইউনিয়নের মিনা বাজার,বাগডোহরা, কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা,মটুকপুর, চিলাখাল, গজঘণ্টা ইউনিয়নের চরছালাপাক, গাউছিয়া বাজার, মর্নেয়া ইউনিয়নের ভাঙাগড়ার চর, তালপট্টি নরসিং এলাকার শতশত পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও এই এলাকায় সদ্য রোপন কৃত আমন ধানের চারাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এব্যাপারে তিস্তার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ভুক্তভোগী কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন এমন দুর্ভোগ শুধু যে আজকে হচ্ছে তানা। প্রতিবছর প্রায় ৩ মাস ধরে আমাদের কয়েকবার পানিতে ভাসতে হয়। তারা বলেন প্রায় শুনি তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ হবে। কাজ আর হয়না। তারা আরও বলেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তিস্তা নদী খনন করা হলে গঙ্গাচড়া সহ তিস্তা পাড়ের হাজার হাজার পরিবারের সীমাহীন দুর্ভোগ লাঘব হবে।







































