
গাজী হাবিব/জাহাঙ্গীর সরদার, সাতক্ষীরা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে জনগণের শাসন ও ইনসাপ কায়েম হবে। দাঁড়িপাল্লার বিজয় মানে জামায়াতে ইসলামের বিজয় নয়- দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বচনী ঐক্যের সাতক্ষীরা জেলা শাখা আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে শাসন হবে জনগণের শাসন। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- আমরা জামায়াত ইসলামের বিজয় চাই না, আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষ ফ্যাসিজমের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হলে আমরাও মুক্ত। আর তারা যদি বাতিলের পথে যুক্ত হয় তাহলে দেশ ও জাতি বিপদের মুখে পড়বে।তিনি আগামী ১২ তারিখের ভোটকে আজাদী ও গোলামির মানদন্ড হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, হ্যাঁ ভোট মানে আজাদী, আর- না ভোট মানে গোলামি। আমরা গোলামী চাইনা, চাই আজাদী হতে।আমীরে জামায়াত আরও বলেন, ক্ষমতায় এলে দ্বীনের নির্দেশনার আলোকে দেশ পরিচালিত হবে। মতভেদ থাকা স্বাভাবিক হলেও সবাইকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে কমন বোর্ড গঠন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি ন্যায়, ইনসাফ ও ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে দাঁড়ানোর জন্য সাতক্ষীরাবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান জানান।নারীদের পোশাকের ব্যাপারে জামায়াতের আমির একটি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন - একটি এক বছরের শিশুও আমাদের মা, মাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের একটি ছেলের দ্বারা দেশের কোথাও কোন মা বোন নির্যাতিত- অত্যাচারিত হবে না।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সাতক্ষীরাবাসীর সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে। ৪৮ জন শহীদের রক্তে ভেজা পূন্যভূমি সাতক্ষীরার চারটি আসন যদি জনগণের সরকার ও ইনসাফভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাঁড়িপাল্লায় দিয়ে বিজয়ী করা হয়, তাহলে এই এলাকার মানুষের উপর আস্থা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।বিগত সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সব বিরোধীদলের ওপর যে দমন পীড়ন চালানো হয়েছে তার সব জেলায় করা হলেও সাতক্ষীরাতে আরেকটি বেশি নির্যাতন করা হয়েছে। তাহলে বুলডোজার দিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।দুর্নীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। জনগণের সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বিষয়ে কোনো আপোষ করা হবে না। তিনি বলেন, আল্লাহ আমাদের সুযোগ দিলে জনগণের সম্পদ যারা লুট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখানে কোনো দয়া বা ক্ষমা নেই।দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটই এর মূল কারণ। সরকার গঠন করতে পারলে প্রথমে চাঁদাবাজদের দমন এবং পরে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।যুব সমাজ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের অপমান করা হবে না। বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ নাগরিক ও দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে এবং মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।প্রতিবেশী রাষ্ট্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের বন্ধু হিসেবে দেখা হবে, তবে কাউকে প্রভু হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান সাতক্ষীরা বাসির উদ্দেশ্যে বলেন, রেলপথ এ জেলার মানুষের প্রাণের দাবি, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলকে উজ্জীবিত করে যুব সমাজকে কর্মসংস্থানে সুযোগ করে দেওয়া, চাঁদাবাজ, মাদক সিন্ডকেট, ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন - একটি দল দাঁড়িপাল্লা কে নিয়ে দাঁড়িপাল্লাকে নিয়ে মিথ্যার পথ, গুজবের পথ ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করে একশ তে একশ পাওয়ার কথা বলেন।সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আজিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, সাতক্ষীরা -১ আসনের দাঁড়িপল্লা প্রতিকের প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান মাদানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্র শিবিরের সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি আল মামুন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, জেলা এ বি পার্টির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন শাকিল, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতক্ষীরার সমন্বয়ক আরাফাত হোসাইন প্রমূখ।জনসভায় সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত জামায়াত -শিবিরের হাজার হাজার নেতাকর্মী ব্যানারসহকারে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে উপস্থিত হন।





























