
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রামে ওয়ারিশ গোপন করে জমি বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে আকমল হোসেন ও সবুর হালদারসহ একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জমি ক্রেতা আব্দুল জব্বার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ন্যায়বিচারের আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
অভিযোগে জানা যায়, বাজার গ্রামের মৃত পঞ্চানন হালদারের মালিকানাধীন প্রায় ৭০ শতক জমি বিক্রির প্রস্তাব দেন অভিযুক্তরা। কিন্তু জমির প্রকৃত ওয়ারিশদের তথ্য গোপন রেখে কুশুলিয়া ইউনিয়নের গাজী দুর্গাপুর মৌজার এসএ ৪৪ ও ৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৮, ৯ ও ১০ নম্বর দাগের জমি ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই ৩৬০২ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা হয়।
এ সময় সন্ন্যাসী হালদার ও মৃত নিমাই হালদারের পুত্র অনিপ হালদারকে দাতা হিসেবে দেখিয়ে অন্য ওয়ারিশদের অজ্ঞাতে জমি বিক্রি সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। জমির মোট মূল্য ধরা হয় ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ টাকা প্রকৃত মালিকদের প্রদান করা হলেও বাকি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন আকমল হোসেন—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
পরবর্তীতে ক্রেতা আব্দুল জব্বার নামজারি সম্পন্ন করে জমির দখল নিতে গেলে পুরো বিষয়টি সামনে আসে। প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সন্ন্যাসী হালদার ও অনিপ হালদার তাদের প্রাপ্ত ৬ লাখ টাকা ফেরত দিতে সম্মত হন। তবে অভিযুক্ত আকমল হোসেন বাকি টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ক্রেতাকে ‘সুদখোর’ আখ্যা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের নোটিশ দেওয়া হলে আকমল একবার উপস্থিত হয়ে সময় নেন, কিন্তু পরে আর হাজির হননি। তিনি বিষয়টিকে গুরুতর উল্লেখ করে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হয়েছে।





























