
মোতালেব হোসেন(কুমিল্লা)।। কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে বাগ্বিতণ্ডার জেরে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক হলেন স্থানীয় দৈনিক আমার শহর এর দেবীদ্বার প্রতিনিধি আবদুল আলীম এবং মানবজমিন পত্রিকার দেবীদ্বার উপজেলা প্রতিনিধি রাসেল সরকার।সাংবাদিকদের অভিযোগ , নামজারির একটি শুনানিকে কেন্দ্র করে তাঁরা দুপুরের দিকে চান্দিনা উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে যান। বেলা প্রায় ২টার দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূরের কাছে শুনানি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে ওই আচরণের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে পুলিশ ডেকে এনে দুই সাংবাদিককে হাতকড়া পরিয়ে থানায় পাঠানো হয়।আব্দুল আলীম বলেন, আমরা বারবার জানিয়েছি আমরা সাংবাদিক। কিন্তু পুলিশ বলেছে, ‘ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ রয়েছে।’ থানায় নেওয়ার পর তাঁদের মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে লক খুলে গ্যালারির ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলা হয় বলেও জানান তিনি। পরে বিষয়টি আর না বাড়ানোর শর্তে তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আল নূর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুরো ঘটনাটি ভুল–বোঝাবুঝির ফল। তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি শুনানিতে ব্যস্ত ছিলেন। সাংবাদিকরা অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ শুরু করেন এজন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ডাকা হয় এবং তাঁদের পরিচয় জানার পরই হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। তিনি কোনো ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি বলেও জানান তিনি।এদিকে ঘটনার পর দুই সাংবাদিকের হাতকড়া পরিহিত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লার সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক (ফারুক) বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের বিবেক। তাঁদের কাজ করতে গিয়ে এভাবে অপমান করা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চান্দিনার এই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।




























