
নিজস্ব প্রতিবেদক :
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে মাদ্রাসায় তালা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এতে গত পাঁচ দিন ধরে মাসরাসাটি বন্ধ রয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের আনোয়ারপুর শাহেদীয়া ফয়জুল উলুম কওমী মাদ্রাসায়। এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে,আনোয়ারপুর শাহেদীয়া ফয়জুল উলুম কওমী মাদরাসাটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠার পর থেকে এলাকার শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা গ্রহণের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি হতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটিতে এবছর অষ্টম শ্রেণি (মিজান) পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।তার বিপরীতে পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মোট ৩ জন।
মঙ্গলবার (১৯ মার্চ ) বেলা ১২টার দিকে ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসার প্রধান ফটকে তালা লাগানো রয়েছে।কোন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
জানতে চাইলে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন,মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেম্বার মীর হোসেন গত শুক্রবার মাদ্রাসার হিসাবের পরবর্তী সময়ে দানকৃত ৫০ হাজার টাকার বাগবাটোয়ারা করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয়।তাই সে ও তার মহল্লা (শিবরামপুর)মসজিদের ইমাম ও অত্র মাদ্রাসার মোহতামিমকে তাদের গ্রামের মাদ্রাসার ছাত্রসহ চলে যেতে বলে। যাওয়ার সময় কক্ষ গুলোতে তালা দিয়ে যায়।এমনকি মীর হোসেন মেম্বারকে না জানিয়ে তালা খুললে তাকে(সভাপতি) প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও জানান তিনি।
জানতে চাইলে মাদ্রাসা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন বলেন,মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও তার ভাইয়েরা এই মাদ্রাসার কোন হিসাব-নিকাশ মাদ্রাসা কমিটিকে বুঝিয়ে দিতে চায় না।তারা কথায় কথায় এই মাদ্রাসার তারা প্রতিষ্ঠা করেছে বলে দাবি করে।তাই তারা তাদের ইচ্ছে মত মাদ্রাসা চালাচ্ছে। তাই স্থানীয় লোকজনের সামনে আমাদের মহল্লার ইমাম ও অত্র মাদ্রাসার মুহতামিম সহ আমার গ্রামের ছাত্রদেরকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাই।মাদ্রাসায় গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র থাকায় স্থানীয়দের সামনে মাদ্রাসার মুহতামিম মাদ্রাসায় তালা দিয়ে রাখেন।স্থানীয় কয়েকজনকে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য মঙ্গলবার বিকেলে সংশ্লিষ্টরা বসবেন। বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হোক এটাই চাই।
মাদ্রাসার মুহতামিম মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানান,মাদ্রাসাতে বিভিন্ন কিতাব ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র থাকায় তালা দিয়ে রাখা হয়েছে।মাদ্রাসাটি খোলার জন্য আমার কাছে কেউ চাবি চাইনি।তবে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তালা লাগানো হয়নি।মাদ্রাসা নিরাপত্তার জন্য তালা লাগানো হয়েছে।
মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ এমরান হোসেন বলেন,বিষয়টি শোনেছি।ঘটনাস্থলে থানা থেকে তিনজন অফিসারসহ ফোর্স পাঠানো হয়েছে।তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





























