
সফিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বিল্লাল হোসেন (২৮) নামের যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের ভাগলপুর এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিল্লাল হোসেন ধামঘর ইউনিয়নের রায়তলা গ্রামের মতিন মিয়ার ছেলে। সে পেশায় একজন অটোরিক্সা চালক। পরিবারে দাবি পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, বিল্লাল হোসেনের গ্রামের পার্শ্ববর্তী ভাগলপুর গ্রামের ইটভাটার পাশে পুকুর পাড়ে গাছের সাথে বিল্লাল হোসেনের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা মুরাদনগর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
নিহত বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী বলেন, রাতে আমার স্বামী বাড়ি থেকে বেড় হয়। রাতে বাড়িতে না ফেরায় আমি ভোর সকালে ভাসুরকে নিয়ে আমার স্বামীকে খোঁজতে বের হই। কিন্তু কোথাও খুইজা না পাইয়া বাড়িতে ফিরা আসি। কিছুক্ষন পর জানতে পারি আমার স্বামী ফাঁস দিছে। তিনি তার সন্তানদেরকে বুকে টেনে নিয়ে আর্তচিৎকার করতে করতে বলেন, এখন আমার আর আমার সন্তারদের কি হইবো। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করি, আমার স্বামী গাড়ি চালায় তাই দিয়ে আমাগো সংসার চলতো। এখন আমি আমার বাচ্চাদের নিয়া কেমনে চলমু। আমার স্বামীরে যারা মারছে, আমার বাচ্চাদেরকে যারা এতিম করছে আমি তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।
বিল্লাল হোসেনের ১০ বছর বয়সী বড় ছেলে বলেন, আমরা ছোড তিন ভাইবোন। আমরারে এতিম করছে। আমরা এখন কেমনে চলমু, কেমনে খামু। আমার বাবারে যারা মারছে আমি তার কঠিন বিচার চাই।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জামিল খান বলেন, খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে আমরা নিশ্চিত হতে পারব সেটা হত্যা ছিল নাকি আত্মহত্যা। লাশের আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমরা এটার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেছি।


























