
নারায়ণগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডাকাতির ঘটনা, তার সঙ্গে বাড়ছে মানুষের আতঙ্ক। গত দুইমাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১২টি ডাকাতি এবং ১৩টি দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে। ঘরে ঢুকে লুটপাটের পাশাপাশি সড়কেও টার্গেট হচ্ছে যাত্রীরা।
শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জে একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তাহীনতা। গত দুই মাসে জেলায় ২৫টি ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘হঠাৎ করেই রুমে একটা শব্দ হয়েছে তার পর দেখি কয়েকজন। রুমে ঢুকেছে চোখ মুখ বাঁধা অবস্থায়। তাদের সবার হাতে ছুরি চাপাতি ছিলো।’
পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে কোথাও নগদ টাকা, কোথাও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাচ্ছে ডাকাত দল। শুধু বাড়ি নয়, মহাসড়কেও সক্রিয় ডাকাত চক্র। গভীর রাতে গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়ার ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। বাধা দিলে হামলা চালিয়ে আহত করার ঘটনাও রয়েছে একাধিক।
আহত বিদেশ ফেরত এক নারী যাত্রী বলেন, ‘আসার সময় পুলিশের কথা বলে গাড়ি থামিয়ে আমার ব্যাগ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার সব নিয়ে যায়।’
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, ডাকাতিকে পেশা হিসেবে নেয়ায় প্রবণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এক্ষেত্রে ডাকাতির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তারা।
নারায়ণগঞ্জ জজকোর্টের অ্যাডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রশাসন যদি সচেতন থাকে তাহলে এ ডাকাতির প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে।’
স্থানীয় রাজনীতিবিদরাও মনে করেন, ডাকাতির মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সাথে সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিদের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব বলেন, ‘আমরা এলাকার পঞ্চায়েত কমিটিগুলো আবারও সক্রিয় করার চেষ্টা করছি। যার ফলে অনেকটাই ডাকাতি কমে আসবে।’
ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছে জেলা পুলিশ। গত দুইমাসে ঘটে যাওয়া ডাকাতি ও দস্যুতার ২৫টি মামলার মধ্যে ১২টির আসামি শনাক্ত এবং কিছু মালামালও উদ্ধার হয়েছে। বাকিগুলো নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ‘যারা ডাকাতির মতো কাজ করছে তারা আগে থেকেই পরামর্শ এবং যে বাসায় ডাকাতি করবে তা দেখে রাখে। আমরা তা বন্ধের জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়েছি।’
একদিকে বাড়ছে ডাকাতির ঘটনা, অন্যদিকে মামলা করতে অনীহা ভুক্তভোগীদের। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, এ আতঙ্ক কবে কাটবে— সেটাই এখন নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রশ্ন।



































