
মোঃ জমশেদ আলী
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কালিকাপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের পুকুর নিয়ম বহির্ভূতভাবে তার ছোট ভাই ও সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম মোল্লাকে লিজ দিয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনের পরিত্যক্ত ইট-খোয়া ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করারও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কোনো কমিটি নেই। প্রধান শিক্ষক তার ভাই ও ভাগ্নেকে এডহক কমিটির সভাপতি বানিয়ে ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। এতে নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর বিদ্যালয়ের আয়া মারা যাওয়ার পরও নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বরং প্রধান শিক্ষক নিজ উদ্যোগে একজনকে অস্থায়ীভাবে রেখেছেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার বেতন দেওয়া হচ্ছিল। পরে অভিভাবকদের ক্ষোভের কারণে গত কয়েক মাস ধরে ওই বেতন বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে।
অভিভাবকরা আরও অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা কমন রুমের ব্যবস্থা না করে একই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। একাধিকবার বিষয়টি জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি, যা সরকারি বিধিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে স্থানীয় দোকানদার হেলাল উদ্দিন বলেন, তারা খুবই ক্ষমতাশালী লোক। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না। এক ভাই মাস্টার, ছোট ভাইও মাস্টার—ওরাই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্যালয়ের পুকুর কীভাবে খাচ্ছে কেউ জানে না। প্রতিষ্ঠানের ইট ভাঙতে দেখেছি, পরে শুনেছি প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না।”
স্থানীয় যুবক সোহানুর রহমান বলেন, গত ১৭ বছর ধরে তারা স্কুলটিকে পারিবারিকভাবে চালাচ্ছে। পুকুর লিজ থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগ সবকিছু নিজেদের মধ্যে করছে। প্রতিষ্ঠানের পুকুর লিজ দিতে হলে সবাইকে জানানো উচিত, কিন্তু তারা গোপনে নিজেদের ভাইকে লিজ দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক তাদের কিছু না জানিয়েই এসব কাজ করেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন,
“তোমাদের জানতে হবে না, আমার বলার জায়গা আছে।”
এ ব্যাপারে সরেজমিনে গেলে আত্মীয়-স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী বলেন,“কালিকাপুরের সবাই আমার আত্মীয়। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।”তবে তিনি পুকুর লিজ ও অন্যান্য অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, বিষয়টি আমলে নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।





























