
আরাফাত আলী,স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নীতিমালা উপেক্ষা করে এনেসথেসিয়ালজিস্ট (অজ্ঞান করার চিকিৎসক) ছাড়াই সিজার অপারেশন চালানোর উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে সিজার অপারেশনের সময় সার্জন নিজেই এনেসথেসিয়ার কাজ সম্পন্ন করার প্রমাণ মিলেছে, যা রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার পাওখালি মোড়ে অবস্থিত লাইফ কেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের ইমরান হোসেনের স্ত্রী সাদিয়া পারভীনের সিজার অপারেশনের প্রস্তুতি চলছে। রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই অপারেশনকারী চিকিৎসক আব্দুল লতিফকে ওটি রুমে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই সময় অপারেশন থিয়েটারে কোনো প্রশিক্ষিত এনেসথেসিয়ালজিস্ট উপস্থিত ছিলেন না।অপারেশনকারী সার্জন নিজেই রোগীকে অজ্ঞান করার ইনজেকশন দিয়ে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান, এনেসথেসিয়া একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর চিকিৎসা প্রক্রিয়া। প্রশিক্ষিত এনেসথেসিয়ালজিস্ট ছাড়া এ ধরনের ওষুধ প্রয়োগ রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হওয়া, হৃদযন্ত্রের জটিলতা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় চিকিৎসা নীতিমালায় এনেসথেসিয়ালজিস্ট ছাড়া সিজার অপারেশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অপারেশন শেষে ওটি রুম থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে পড়েন লাইফ কেয়ার হাসপাতালের স্টাফ হাবিব হোসেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অপারেশনকারী চিকিৎসক আব্দুল লতিফ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পরে স্টাফ হাবিব হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,অপারেশনের সময় এনেসথেসিয়ালজিস্ট পাওয়া যায়নি। রোগীর অবস্থা খারাপ ছিল, এজন্য ডাক্তার সাহেব নিজেই রোগীকে অজ্ঞান করে অপারেশন সম্পন্ন করেছেন।তিনি আরও স্বীকার করেন, তাদের হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে।এবিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক আব্দুল লতিফ বলেন,আমি সাধারণত এনেসথেসিয়ালজিস্ট ছাড়া কোনো অপারেশন করি না। তবে ওই রোগীর অবস্থা জরুরি হওয়ায় নিজেই এনেসথেসিয়ার কাজ করেছি।তিনি নিয়মবহির্ভূত কাজ করার বিষয়টি স্বীকার করেন।লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,উপজেলার অন্যান্য অনেক ক্লিনিকেও এনেসথেসিয়ালজিস্ট ছাড়াই অপারেশন করা হয়। তবে আমাদের হাসপাতালে অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে এনেসথেসিয়ালজিস্ট রাখা হয়। ওই রোগীর অবস্থা জরুরি ছিল বলেই চিকিৎসক নিজেই এনেসথেসিয়ার কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে এনেসথেসিয়ালজিস্ট ছাড়া কোনো অপারেশন করানো হবে না।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার সাথী জানান,
“আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে দীর্ঘদিন ধরেই এনেসথেসিয়ালজিস্ট ছাড়াই সিজার অপারেশন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির অভাবে এসব অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।




























