
নাহিদ ইসলাম, রাজশাহী ব্যুরো: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় অবৈধ পন্থায় এক মৃত নারীর মৃত্যু সনদ অন্য একজন ব্যক্তিকে প্রদান করেছেন উপজেলার ৩নং বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা খাতুন ও ইউপি সচিব মইনুল হাসান।
গতকাল সোমবার (৭ জুলাই) সকালে এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মৃত ওই নারীর মেয়ে রশিদা খাতুন।
সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চকহরিরামপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুর রশিদের স্ত্রী সাহারা বেগমের মৃত্যুর কয়েক মাস পর সম্প্রতি তার মৃত্যু সনদ তুলতে গিয়ে মৃত সারাহা বেগমের মেয়ে জানতে পারেন তার মায়ের মৃত্যু সনদ জামিলুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ জামিলুর রহমান মৃত সাহারা বেগমের পরিবারের কেউ নন এবং সনদটি তোলার জন্য তার কাছে কোনো লিখিত অনুমতিপত্রও ছিল না।
তবে ইউপি সচিব মইলুন হাসান জানিয়েছেন, “চেয়ারম্যানের মৌখিক অনুমতিতেই জামিলুর রহমানকে সাহারা বেগমের মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়েছে।”
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাইমা খাতুনের কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মৃত্যুর সনদ অনধিকার ব্যক্তিকে দেওয়ার বিষয়ে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে নাটোর জজ কোর্টের আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ মনে করেন পরিবারের সদস্য নয় এবং পরিবারের অনুমতি না পাওয়া এমন ব্যক্তির কাছে জন্ম-মৃত্যু সনদ প্রদান করা সম্পূর্ণ আইন বিরোধী। তিনি জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন-২০০৪ এ বলা হয়েছে মৃত ব্যক্তির মৃত্যু সদন তার স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, নিকট আত্মীয় বা আইনগত উত্তরাধিকার ছাড়া তোলার অধিকার কেউ রাখে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “মৃত্যু সনদের মতো ব্যক্তিগত ডকুমেন্টস পরিবারের বাইরে অন্য কাউকে দেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





























