
স্টাফ রিপোর্টার:
সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের মানুষের কাছে এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর আনন্দহীন হয়ে পড়েছে। অকাল বন্যা ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ বোরো ধানক্ষেত,যা তখনো সবুজ রঙের আভা ধারণ করেছিল। ফলে ফসল ঘরে তোলার আগেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচি গ্রামের কৃষক আব্দুল হাই জানান,সবুজ ধান চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে গেল,এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। ঋণ করে চাষ করেছি,এখন কীভাবে তা শোধ করবো বুঝতে পারছি না।
হাওরপাড়ের বাসিন্দারা জানান,আগামীকাল ঈদ হলেও ঘরে নেই উৎসবের আমেজ। নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা,অনেক পরিবারের পক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোও কঠিন। ফলে শিশুদের মধ্যেও ঈদের আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন,টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার সাইট হওয়ায় এখানে পানি প্রবেশ স্বাভাবিক হলেও,তাই সরকার এখানে বাঁধ দেয়নি,কিন্তু হাওর পাড়ের ৮২গ্রামের মানুষ এই হাওরের চতুর্পাশে বোর ফসল চাষাবাদ করে যাহা তাদের রেকর্ড ভুক্ত জমি।তাদের ব্যাপারে কি সরকার কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে,তারাত এই একমাত্র ফসলের উপর নির্ভরশীল। নজরখালি বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই কৃষকদের এমন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তা,কৃষি ভর্তুকির ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা আরও সংকটে পড়বে।কষ্টের মাঝেও ঈদের দিন ঘনিয়ে আসায় হাওরবাসী নামাজ আদায় ও দোয়ার মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করবেন—এই আশাতেই সময় গুনছেন তারা।




























