
বিনা সুদে লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সারা দেশ থেকে রাজধানীর শাহবাগে লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশের চেষ্টা করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অভিযোগ ওঠে ‘অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে। এর পরেই সামনে আসে সংগঠনটির উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতারণার ফাঁদের বিষয়। জানা গেছে, সংগঠনটির আড়ালে বিভিন্ন অপতৎপরতায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ফরওয়ার্ড পার্টি।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপে ফেলতে রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে হাজারও মানুষ জড়ো করে বসে পড়ার পরিকল্পনা করে ‘ভুঁইফোঁড়’ এই সংগঠন ‘অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ’।
দেশকে অস্থিতিশীল করার এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে আছেন মূল পরিকল্পনাকারী ‘অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশ’-এর আহ্বায়ক আবম মোস্তফা আমীন ও অন্যতম সংগঠক মাহবুবুল আলম চৌধুরী। এছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসার পথে জেলা শহরগুলোতে গ্রেফতার হয়েছেন অনেকে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই পার্টির পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলায় ৭ থকে ৮ জন করে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে গড়ে তুলেছে বিশাল এক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারের বেশি বাস ভরে লোক নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেয়।
এর আগে ‘অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশ’-এর ৫ টাকার ফরম পূরণ করে সদস্য করে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে। যারা বিনাসুদে ঋণের আশায় ঢাকা এসেছেন তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি এক হাজার করে টাকা নেয় প্রতিনিধিরা। এক প্রকার প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে চক্রটি। রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বর রোডে ১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয়তলায় অফিসও খুলে বসেছে তারা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রাজধানীর শাহবাগ দখল করে সেখানে বসে পড়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। রাজধানীতে বড় ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির নীলনকশা করেছিল। তবে আমাদের গোয়েন্দা সূত্র আগে থেকেই বিষয়টি জেনে যায়। রোববার রাতেই এদের মূল হোতা মোস্তফা আমীনকে হেফাজতে নিয়ে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।
চক্রটির বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহফুজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা বেশির ভাগই এ চক্রের জেলা পর্যায়ের সক্রিয় প্রতিনিধি। একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে বর্তমান সরকারকে চাপে ফেলার জন্য তারা ঢাকায় জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল।
তবে মোস্তফা আমীনকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেছেন বলেও জানান এসআই মাহফুজুর রহমান।
রোববার রাত ১টার পর সারা দেশ থেকে বাস, পিকআপ ভ্যান ও মাইক্রোবাসে সাধারণ মানুষ ঢাকায় আসতে শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আসা লোকজনকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেন। সোমবার সকাল ৭টার দিকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রচণ্ড যানজট দেখা যায়। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দুপুর ১২টার পরও আট থেকে ১০টি বাসভর্তি মানুষ শাহবাগে আসে। তাদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়। আটক করা হয় বেশ কয়েকজনকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের কাজে বাধা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার গ্রেফতারদের মধ্যে ১৮ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আহ্বায়ক মোস্তফা আমীন পুলিশ হেফাজতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, ইসতিয়াক আহমেদ, মাহবুব আলম চৌধুরী, মেহেদী হাসান, রাহাত ইমাম নোমান, মাসুদ, ইব্রাহীম, আলেক ফরাজী, সাইফুল ইসলাম, আবু বক্কর, রিংকু, নিজাম উদ্দিন, হারুন, আফজাল মন্ডল, রহিম, নুরনবী, শহিদ ও কহিনুর আক্তার।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোস্তফা আমীনের বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার নোয়াপুরে। এর আগেও তিনি ২০২৩ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এমন একটি প্রোগ্রাম করেছিলেন। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়া তার পেশা। এর আগেও তিনি আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা গণমাধ্যমকে বলেন, জনতুষ্টি মতোবাদের ওপর ভিত্তি করে তারা বিনাসুদে ঋণের কথা বলে শাহবাগে লোক জড়ো করার চেষ্টা করে। তাদের পেছনে আর কারা আছে তার তদন্ত চলছে।







































