
মোঃ কাওছার আহম্মেদ, গাইবান্ধা ঃ
সাদা বস্তায় ভরা টকটকে লাল মরিচ—এই দৃশ্যই এখন গাইবান্ধার ফুলছড়ি হাটের পরিচিত চিত্র। উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মরিচের পাইকারি এই হাটে প্রতি সপ্তাহে কোটি টাকার বেচাকেনা হলেও এখনো গড়ে ওঠেনি কোনো স্থায়ী নিজস্ব জায়গা। ব্যক্তি মালিকানাধীন ভাড়া করা জমিতেই চলছে দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যকেন্দ্র।
জেলা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের পুরাতন হেডকোয়ার্টার এলাকায় সপ্তাহে দু’দিন—শনিবার ও মঙ্গলবার—সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে এই হাট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সদর, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও ফুলছড়ি উপজেলার প্রায় ১৬৫টি চরের উৎপাদিত শুকনা মরিচ এখানে কেনাবেচা হয়।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চল—জামালপুর, নওগাঁ, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, রংপুর ও রাজধানী ঢাকাসহ—থেকে পাইকাররা ছুটে আসেন এই হাটে। পাশাপাশি নামকরা খাদ্যপ্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও নিয়মিত এখান থেকে মরিচ সংগ্রহ করেন।
হাটের দিন ভোর হতেই ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের ঘাটে শুরু হয় ব্যস্ততা। সারি সারি নৌকায় ভেসে আসে সাদা বস্তাভর্তি লাল মরিচ। ঘাটজুড়ে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। নৌকা থেকে নেমে কৃষকরা প্রায় আধা কিলোমিটার বালুময় পথ পাড়ি দিয়ে হাটে পৌঁছান—কেউ মাথায় বোঝা নিয়ে, কেউ বা ঘোড়ার গাড়িতে। এই কষ্টসাধ্য যাত্রায় নারী ও শিশুর অংশগ্রহণও চোখে পড়ে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জমে ওঠে কেনাবেচা। মরিচের মান অনুযায়ী উত্তম, মধ্যম ও নিম্ন—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করে দাম নির্ধারণ করা হয়। মৌসুমভেদে দামের তারতম্য থাকলেও চলতি মৌসুমে বাজারদর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়লেও সে অনুপাতে দাম না পাওয়ায় তারা প্রত্যাশিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোলাবাড়ি গ্রামের কৃষক রিপন বলেন, “চার বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম কম। এই হাটই আমাদের প্রধান ভরসা।
ফুলছড়ি হাটের ইজারাদার শওকত মির্জা রুস্তম জানান, “প্রতি হাটে সোয়া কোটি থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়। এটি উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মরিচের হাটগুলোর একটি। তবে নিজস্ব জায়গা না থাকা, হাটসেডের অভাব এবং দূর থেকে আসা ব্যবসায়ীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা না থাকায় নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “নিকটবর্তী সরকারি খাস জমি উন্নয়ন করে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে হাটের পরিবেশ উন্নত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত পরিকল্পিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হলে ফুলছড়ির এই ঐতিহ্যবাহী মরিচের হাট জাতীয় অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।





























