
স্টাফ রিপোর্টার :
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় এক নারী স্বাস্থ্যকর্মীকে পথরোধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন ওরফে ছোট বাবু এবং স্থানীয় সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মচারী আওরঙ্গের বিরুদ্ধে।গত পহেলা জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬ টার দিকে মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের অভিযুক্ত আওরঙ্গজেবের বাড়ির পাশের একটি বাগানে ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী (৩৬) ওই নারী জানান, তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে কর্মরত। তার স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করায় সেই সুযোগে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ টার দিকে অফিস শেষে তার ৯ বছর বয়সী ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা হেমায়েত হোসেন ও আওরঙ্গ তার পথরোধ করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্ত আওরঙ্গ তার মুখ চেপে ধরে, এ সময় হেমায়েত হোসেন তাকে জাপটে ধরে পাশের একটি বাগানের ভেতরে নিয়ে যায়।
সেখানে তারা দু’জনই ধর্ষণের উদ্দেশ্যে শারীরিকভাবে তাকে লাঞ্ছিত করে। তিনি বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী তাদের উদ্দেশে বলেন, “আমি এলাকার মানুষদের কাছে তোদের মুখোশ খুলে দেবো।” এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে।এসময় তার সঙ্গে থাকা ৯ বছর বয়সী শিশু চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্তরা তাকে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় লোকজন ভুক্তভোগীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার পর থেকেই ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনের এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরে বেড়ালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ দায়সারা একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রুজু বা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেননি।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাজীব ভুক্তভোগী নারীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা গ্রহণ করা হবে না। এতে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিয়ে চরম শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এবিষয়ে কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজীবের সরকারি মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত আওরঙ্গজেব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগী নারী তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়াচ্ছেন। জমি–জমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ ও স্থানীয় বিচারে পক্ষে–বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন ছোট বাবু বলেন, পারিবারিক বিচারে ওই নারীর বিপক্ষে রায় দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে ওই নারী। তিনি কাউকে ধর্ষনের চেষ্টা করেনি বলে দাবি করেন।
মথুরেশপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেমায়েত হোসেন ছোট বাবু বলেন, পারিবারিক বিচারে বিপক্ষে রায় হওয়ায় ওই নারী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তিনি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে, যা আইনের শাসন ও নারীর নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ভুক্তভোগী নারী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, মামলা রুজু এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।





























