
বিশেষ প্রতিনিধি পটিয়া চট্টগ্রাম:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয়েছে আনন্দের হাওয়া। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পটিয়া উপজেলায় প্রথম বারের মতো সরকারি অর্থায়নে নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের মিনি স্টেডিয়াম। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন খরনা ইউনিয়নের জলুয়ার দিঘীপাড় এলাকায় এই মেগা প্রকল্পের কাজ এখন দৃশ্যমান। প্রায় ৪ একর জমির ওপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এই স্টেডিয়ামকে ঘিরে স্থানীয় তরুণ সমাজ ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও প্রকল্পের অগ্রযাত্রা
অনুসন্ধানে জানা যায়, পটিয়ায় একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। সে সময় সম্ভাব্যতা যাচাই ও স্থান নির্বাচন নিয়ে দফায় দফায় পরিদর্শন চলে। দীর্ঘ সাত বছর পর ২০২৩ সালে জলুয়ার দিঘীপাড় এলাকাকে স্টেডিয়ামের জন্য চূড়ান্ত করা হয়। তবে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও দীর্ঘ সময় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পের কাজ থমকে ছিল।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান সরকারের অধীনে এই প্রকল্পে নতুন প্রাণসঞ্চার হয়। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের বিশেষ হস্তক্ষেপে স্থবির হয়ে পড়া এই প্রকল্পটি অবশেষে বাস্তবায়নের মুখ দেখতে শুরু করে। বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
কি কি থাকছে এই আধুনিক স্টেডিয়ামে?
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ খেলার মাঠ নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ক্রীড়া কমপ্লেক্স। স্টেডিয়ামটিতে যে সকল সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকছে:
আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ: ফুটবল ও ক্রিকেটের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে মূল মাঠ।
গ্যালারি ও প্যাভিলিয়ন দর্শকদের জন্য আরামদায়ক গ্যালারি এবং একটি দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়ন ভবন।
খেলোয়াড় ও রেফারিদের সুবিধা: আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক ড্রেসিং রুম এবং রেফারিদের জন্য পৃথক চেঞ্জিং রুমের ব্যবস্থা।
প্রশাসনিক ব্লক: উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আধুনিক অফিস রুম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো।
অন্যান্য:উন্নতমানের ওয়াশরুম এবং দর্শকদের যাতায়াতের জন্য প্রশস্ত পথ।
ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
পটিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মঈনুল আলম ছোটন বলেন, "এই মিনি স্টেডিয়াম পটিয়ার জন্য একটি সম্পদ। এটি শুধু মাঠ নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধের অন্ধকার জগত থেকে সরিয়ে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। এখানে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, টুর্নামেন্ট ও প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।"
নির্মাণ কাজের মান নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা’র ম্যানেজার মো. নুর নবী বলেন, "আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে বদ্ধপরিকর। উপকরণের গুণগত মান নিশ্চিত করে একটি টেকসই অবকাঠামো উপহার দিতে আমরা দিনরাত কাজ করছি।"
চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) সাবেক নির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জসিম উদ্দিন মনে করেন, এই স্টেডিয়ামটি ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিভা তৈরির কারখানায় পরিণত হবে। তিনি বলেন, "সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের ক্রীড়া জগতের কেন্দ্রবিন্দু হবে এই মাঠ।"
আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা
স্থানীয় ফুটবলার সাবেক ফুটবলার পটিয়া বার্দাস ইউনিয়ন এর কর্মকর্তা মো: আবদুল ছালাম তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ভালো কোনো খেলার মাঠ ছিল না। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক জায়গায় খেলতে হতো। এখন আমাদের ঘরের কাছে এমন স্টেডিয়াম হওয়াতে আমরা নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাব।"
চট্টগ্রাম মোহামেডানের ফুটবল কোচ নাছির উদ্দিন এর মতে, গ্রাম পর্যায়ে অনেক সুপ্ত প্রতিভা লুকিয়ে আছে। এই স্টেডিয়াম সেই অভাব পূরণ করবে এবং এখান থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়রা।
সবমিলিয়ে, পটিয়ার খরনা এলাকায় নির্মাণাধীন এই মিনি স্টেডিয়াম কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি এই অঞ্চলের মানুষের কাছে একটি লালিত স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও কোচ মো: জালাল উদ্দীন বলেন চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে পটিয়া হচ্ছে ফুটবলার এর উর্বর জায়গা এই পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম ঢাকা বিভিন্ন লিগে ফুটবলরা খেলে থাকে বর্তমানে জাতীয় ফুটবলার সাজ্জাদের মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় পটিয়া মাঠ থেকে সৃষ্টি হয়েছে এই স্টেডিয়ামের মাধ্যমে অনেক নতুন নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড় পটিয়া থেকে সৃষ্টি হবে আশাবাদী।





























