
মো. মুরাদ মৃধা, রাণীনগর নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সড়কের দুই পাশে অবাধে মুরগির বর্জ্য ফেলার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবাদপুকুর থেকে রাণীনগর উপজেলা এবং আবাদপুকুর চারমাথা থেকে মাদারতলী পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে প্রতিদিন ফেলা হচ্ছে মুরগির নাড়িভুঁড়ি, পালক ও পচা রক্ত। এতে শুধু পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আবাদপুকুর-রাণীনগর প্রধান সড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা এখন বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্তূপ হয়ে থাকা এসব বর্জ্য থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ।প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক, দিনমজুরসহ সকল শ্রেণির কর্মজীবী মানুষ এবং বৃদ্ধ থেকে শিশু পর্যন্ত সকল বয়সের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এই অসহনীয় পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলাফেরা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে বিদ্যালয়গামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নাকে রুমাল বা কাপড় চেপে কোনোমতে এই নরকযন্ত্রণা পার হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই আবর্জনা এখন স্থানীয়দের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ভুক্তভোগী পথচারীরা জানান, দিনের বেলা দুর্গন্ধ সহ্য করা গেলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়। পচা মাংসের লোভে এই এলাকায় শিয়ালের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক সময় তারা পথচারীদের ওপর আক্রমণও চালাচ্ছে। এছাড়া কুকুরের আনাগোনার কারণে মোটরসাইকেল ও রিকশা আরোহীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।পথচারী বাদল জানান, মুরগির আবর্জনার কারণে সন্ধ্যার পরপরই শিয়ালের আনাগোনা শুরু হয় এবং পথচারীদের উপর শিয়ালের দল আক্রমণ করে। তিনি বলেন, "এমন ঘটনার সম্মুখীন আমি নিজেও হয়েছি। তাই রাস্তায় চলাচলের সময় মনে ভয় কাজ করে। বিশেষ করে শীতকালে শিয়ালের উপদ্রব আরও বেড়ে যায়।"বর্জ্য থেকে জন্ম নেওয়া মশা-মাছি এখন ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের বাড়িঘরে। এ বিষয়ে স্থানীয় চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, খোলা স্থানে এভাবে পচা বর্জ্য ফেলায় এলাকায় ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। আসন্ন বর্ষায় এই বর্জ্য ধোয়া পানি জলাশয়ে মিশলে মাছসহ জলজ প্রাণীরও ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুরগি ব্যবসায়ীর তাদের দাবি, "বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা সড়কের পাশে এসব ফেলছেন।"মুরগি ব্যবসায়ী বাইজিদ ও শহীদ বলেন,মুরগি ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ না করার কারণেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।সচেতন মহলের মতে, দ্রুত বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নির্ধারণ করা এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধে কঠোর জরিমানা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায়, রাণীনগরের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি জনচলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে এবং জনস্বাস্থ্য ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।




























