
হুযাইফা হিজল, রায়গঞ্জ:
রায়গঞ্জে আগুনে পুড়ে ছাই বিধবার ঘর, ছেলের বিয়ের টাকা- স্বর্নলংকারও শেষ
রাত তখন প্রায় দুইটা। হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের বাশুড়িয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে। আগুনে পুড়ে যায় দুটি ঘর, আসবাবপত্র, চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। ঘরে থাকা নগদ দেড় লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকারও রক্ষা করা যায়নি।
বাড়িটি বিধবা রেখা বেগমের (৪৬)। তাঁর স্বামী হারুন অর রশীদ মারা গেছেন প্রায় ১৩ বছর আগে। দুই সন্তানকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী জিন্নার বিয়ের জন্য জমিয়ে রাখা টাকা ও স্বর্ণালংকারও ছিল ওই ঘরে। আগুনে সবকিছু হারিয়ে এখন দিশেহারা তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে রেখা বেগমের বাড়িতে আগুন লাগে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, আগুন লাগার পর তাঁরা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার ফোন করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি বলে তাঁদের অভিযোগ। পরে বিষয়টি রায়গঞ্জ থানায় জানানো হয়। থানা-পুলিশ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়। ততক্ষণে আগুনে দুটি ঘরসহ অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সময়মতো বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা গেলে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
স্থানীয়দের চেষ্টায় পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে স্থানীয়রা জানান।
ক্ষতিগ্রস্ত রেখা বেগমের স্বজন মোছা. রনি বেগম বলেন, ‘আমার গহনাসহ বিধবা রেখার রাখা গহনা ও নগদ অর্থসহ সব পুড়ে ছাই হয়েছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেখা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী বেঁচে থাকলে হয়তো এই কষ্ট সহ্য করতে পারতাম। বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী জিন্নার বিয়ের জন্য নগদ দেড় লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার রেখেছিলাম। গত রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমার ঘর পুড়ে গেছে। এটা সত্যি হবে, আমি ভাবতেও পারিনি। নিমিষেই আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে।’
রেখা বেগমের পরিবারের দাবি, আগুনে তাঁদের প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, চাল-ডাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পাশাপাশি বিয়ের জন্য জমানো টাকা ও স্বর্ণালংকার হারিয়ে পরিবারটি এখন বড় সংকটে পড়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। বিধবা রেখা বেগমের ঘর-সংসার পুনর্গঠনে মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।



























