
বিশেষ প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সামনের টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে চলছে একের বিরুদ্ধে অন্যের অভিযোগ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বদলির আদেশ। বদলির আদেশ নিয়ে বহালতগিয়দে রয়েছেন, বদলিকৃতরা।
চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত ক্যাশিয়ার মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম ও অশালীন আচরণের অভিযোগ তুলে জেলা সিভিল সার্জন বরাবরে লিখিত দিয়েছেন চন্দনাইশ ও দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন পদে কর্মরত ৩৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী। এদের মধ্যে ৯ জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে স্টোর কিপার মনসুরুল ইসলাম, জুনিয়র মেকানিক আহসান হাবিব, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক সামশুল ইসলাম চৌধুরী আইডি কার্ড ও ট্রেনিংয়ের কথা বলে তাদের নিকট থেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইমদাদুল ইসলাম নামে পদুয়া লোহগাড়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ দেন। অভিযোগে দেওয়া তার মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। একই সাথে মোবাইলের ২টি রেজিস্ট্রেশনে এনআইডিতে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও কুমিল্লা মুরাদনগরের ২ মহিলার নামে পাওয়া যায়।
এদিকে অভিযোগ পেয়ে গত ১১ আগস্ট বিষয়টি তদন্তের জন্য ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে ৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়। তদন্ত কমিটি গঠনের ১ দিনের মাথায় ক্যাশিয়ার মো. শহিদুল ইসলামকে রাঙ্গুনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ক্যাশিয়ার সোহানুর রহমান‘কে চন্দনাইশ থেকে বদলির আদেশ দিয়ে ২০ মে। কিন্তু জেনারেল হাসপাতালের বায়োমেট্রিক হাজিরায় ১ জুন থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট অবশেষে লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন তিনি। কিন্তু এই দীর্ঘ ২ মাস ১৭ দিন ধরে কর্মস্থলে অনুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন। এই ব্যাপারে তাঁর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, প্রতিবছর নভেম্বর মাস থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই সকল টেন্ডারে ঔষধ, এমএসআর সামগ্রীসহ এক থেকে দেড় কোটি টাকার প্রতিবছর টেন্ডার হয়। এই টেন্ডার প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্টোর কিপার মনসুরুল ইসলাম, জুনিয়র মেকানিক আহসান হাবিব। তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এই সকল অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আনোয়ারা থেকে মনসুর আলমকে প্রথমে পটুয়াখাঁলী, পরবর্তীতে সীতাকুন্ডতে যোগদানের পর টেন্ডারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোহাগাড়া বদলি করলে তিনি সেখানে যোগদান না করে তার সুবিধামত ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করেন। চন্দনাইশে যোগদানের পর জুনিয়র মেকানিক আহসান হাবিবের সাথে হাত মিলিয়ে পুনরায় টেন্ডার বাণিজ্যে নেমে পড়ে। চলতি আগস্ট মাসের ১ম সপ্তাহে আনোয়ারা একটি মার্কেটের সামনে ২ ঠিকাদার সাতকানিয়ার অসীম, রাঙ্গুনিয়ার নাঈমের সাথে টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে কথোপকথনের ভিডিও চিত্র রয়েছে। জুনিয়র মেকানিক আহসান হাবিব আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে পরীক্ষার ফি গত ২/৩ মাস ধরে সরকারি কোষাগারে জমা করেন নাই বলে জানা যায়। তাছাড়া মেডিকেল সার্টিফিকেট ইস্যু করতে রোগীদের স্বজন থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তিনি যোগদানের পর চন্দনাইশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্টোরে থাকা পুরাতন সিটসহ বিভিন্ন সামগ্রী টেন্ডারবিহীন বিক্রি করে হাসপাতালের কোষাগারে কোনোরকম অর্থ জমা করেন নাই বলে জানা যায়। এইসব বিষয়ে মনসুর ও আহসান হাবিব সম্পূর্ণভাবে অশ্বিকার করেন।
এ সকল ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেছেন, অভিযোগের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন, তারা প্রতিবেদন দাখিল করবেন। আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিনের পরীক্ষার ফি কয়েক মাস ধরে জমা করে নাই। তাছাড়া টেন্ডার বিষয় নিয়ে প্রতিবছরই একটি মহল লেগে থাকে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কৃর্তৃপক্ষ দেখবেন বলে জানান। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ক্যাশিয়ার সোহানুর রহমান যে সময়টুকু অননুমোদতিভাবে অফিসে ছিলেননা তার বেতন-বিল করার সময় কর্তন করা হবে।



























